প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩ এএম
বাবলা প্রজাতির গাছ থেকে সংগ্রহ করা আঠা ‘গাম অ্যারাবিক’ ব্যবহৃত হচ্ছে কোকা কোলা ও চকলেটে। এই আঠা পাচার করে সুদানের আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফ যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
সোনা নয়, তবে এমনই এক কাঁচামাল যা সুদানের যুদ্ধে বিশাল প্রভাব ফেলছে; কারণ আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) যুদ্ধের খরচ জোগাতে এটি পাচার করা হচ্ছে।
জিনিসটি
হলো এক ধরনের বাবলা গাছের আঠা, যা ‘গাম অ্যারাবিক’ নামেই বিশ্ববাজারে পরিচিত। এই আঠা
বিশ্বের অসংখ্য পণ্যে ব্যবহৃত অপরিহার্য এক অন্তরালের নায়ক।
২০২৩ সালের এপ্রিলে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার
আগে সুদান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাম অ্যারাবিক রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারের প্রায়
৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ছিল তাদের দখলে।
এই গাম অ্যারাবিক আসলে এমন এক আঠা বা
রেজিন, যা মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহৃত অনেক জিনিসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে খাদ্য
ও পানীয়, ওষুধ ও চিকিৎসা, প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত যত্ন এবং মুদ্রণ ও শিল্পকলা খাতের
পণ্যে এটি ব্যাপক পরিমাণ ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক বড় কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের জন্য গাম অ্যারাবিকের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। কোম্পানিগুলো ২০২৪ সালে বিভিন্ন ব্যবহারের জন্য প্রায় ২ লাখ টন গাম অ্যারাবিক আমদানি করে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার।
এই সাধারণ আঠা কীভাবে আরএসএফের যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছে—তা তুলে ধরা হয়েছে আল জাজিরার প্রতিবেদনে।

গাম অ্যারাবিক আসলে কী? কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি এক ধরনের আঠা যা ‘অ্যাকাসিয়া সেনেগাল’
ও ‘অ্যাকাসিয়া সায়াল’ নামের বাবলা প্রজাতির
গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে অ্যাকাসিয়া সেনেগাল থেকে পাওয়া আঠাটি
সবচেয়ে উচ্চমানের এবং এর দামও বেশি। এই গাছগুলো মূলত মধ্য আফ্রিকার বিশাল এলাকাজুড়ে
জন্মায়।
এই আঠা গুঁড়ো করে ‘ইমালসিফায়ার’ বা বাঁধার
কাজে ব্যবহার করা হয়। কোমল পানীয়, আইসক্রিম, মিষ্টি, চুইংগাম, আঠা, রং এমনকি কসমেটিকসেও
এটি থাকে। পণ্যের গায়ে উপাদানের তালিকায় একে ‘গাম অ্যারাবিক’, ‘অ্যাকাসিয়া গাম’, ই৪১৪,
বা ১৪১৪ নামে দেখা যায়।
কোকা কোলা, নেসলের মতো বড় বড় ফুড ও বেভারেজ
কোম্পানিগুলো এর ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল।
এই জিনিসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায় একটা ঘটনায়— নব্বইয়ের দশকে যখন যুক্তরাষ্ট্র সুদানের
ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখনও কিন্তু এই গাম অ্যারাবিককে সেই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল।
গাম অ্যারাবিক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ
উপাদান যার কোনো সহজ সিনথেটিক বিকল্প নেই। বিশেষ করে কোমল পানীয় এবং মিষ্টান্ন শিল্পে
এটি ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে বিবেচিত।
যদি হঠাৎ করে গাম অ্যারাবিকের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে কোকা-কোলা বা এমএন্ডএম’স এর মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যের চিরচেনা স্বাদ ও মান বজায় রাখতে পারবে না।
প্রধান
ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোর কার চাহিদা কেমন
গাম অ্যারাবিকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো
ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানির কোম্পানিগুলো। যদিও দেশগুলো দাবি করছে,
তারা খুব সাবধানে নিয়ম মেনে আঠা কিনছে, কিন্তু গবেষকদের মতে, এই আঠা থেকে যে টাকা আসছে
তা ঘুরেফিরে আরএসএফের হাতেই যাচ্ছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
আল জাজিরা যখন ফরাসি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে
যোগাযোগ করে, নেক্সিরা জানায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা আপাতত সুদান থেকে কেনা বন্ধ
রেখেছে। আবার অলান্ড অ্যান্ড রবার্ট দাবি করেছে,
তাদের প্রতিটি ব্যাচ কোথা থেকে আসছে তা তারা সঠিকভাবে ট্র্যাক করতে পারে। তবে
গবেষকরা এই দাবিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বের
বড় বড় বহুমুখী কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের স্থায়িত্ব এবং টেক্সচার বজায় রাখতে গাম অ্যারাবিক
ব্যবহার করে।
কোমল পানীয়
বিক্রয়কারী বহুজাতিক কোম্পানি কোকা কোলা ও পেপসিকো বিশ্বের বৃহত্তম গাম অ্যারাবিক ব্যবহারকারী।
তারা এটি ব্যবহার করে ড্রিংকসের ফ্লেভার তেলকে পানির সঙ্গে মিশিয়ে রাখতে। এটি ছাড়া
সিরাপ বোতলের নিচে জমাট বেঁধে যাবে।
বিশ্বের
মিষ্টান্ন ও চকলেট খাতের বড় কোম্পানি মার্স, নেসলে, ফেরেরো, ও মন্ডেলিজ তাদের পণ্যের
জন্য গাম অ্যারাবিক কেনে। ক্যান্ডির ওপরের শক্ত আবরণ চকচকে করতে এবং চুইংগামের নমনীয়তা
ধরে রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের
খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেলগস ও জেনারেল মিলস তাদের সিরিয়াল ও স্ন্যাকস
বারে বাইন্ডিং এজেন্ট হিসেবে গাম অ্যারাবিক ব্যবহার করে।
ওষুধ ও
প্রসাধনী খাতের কোম্পানি ফিজার, জনসন অ্যান্ড জনসন ও ল’রিয়েল ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণ ও মেকআপ সামগ্রীতে এটি ব্যবহার করে।
কোম্পানিগুলো
সাধারণত তাদের সঠিক ব্যবহারের পরিমাণ ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করে না, তবে
বৈশ্বিক রপ্তানি ও ব্যবহারের ডাটা থেকে একটি ধারণা পাওয়া যায়।
প্রতি
বছর বিশ্বে গাম অ্যারাবিক উৎপন্ন হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন, তার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ
(প্রায় ৭৫,০০০ টন) সরাসরি খাদ্য ও পানীয় শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
সুদান
থেকে রপ্তানি হওয়া মোট গাম অ্যারাবিকের একটি বড় অংশ দুই জায়ান্ট কোম্পানি কোকা-কোলা
ও পেপসি কিনে থাকে। তাদের বার্ষিক চাহিদা হাজার হাজার টনের উপরে। একবার সুদানের গৃহযুদ্ধের
সময় যখন সরবরাহ কমে গিয়েছিল, তখন এই কোম্পানিগুলো ৩ থেকে ৬ মাসের মজুত রাখতে বাধ্য
হয়েছিল, যা এর গুরুত্ব প্রমাণ করে।
ফরাসি
খাদ্য উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নেক্সিরা এবং আয়ারল্যান্ডভিত্তিক খাদ্য ও পুষ্টি
উপাদান কোম্পানি কেরি সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় কোম্পানি। নেক্সিরা একাই বিশ্ববাজারের
প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারা বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে প্রক্রিয়াজাত গাম অ্যারাবিক
সরবরাহ করে।
কোন
খাতের কোম্পানির কী পরিমাণ চাহিদা
বিশ্বজুড়ে গাম অ্যারাবিকের সবচেয়ে বড় বাজার হলো খাদ্য ও পানীয় শিল্প, যা মোট বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ। এসব কোম্পানির বার্ষিক ৭০-৮০ হাজার মেট্রিক টন গাম অ্যারাবিকের চাহিদা রয়েছে, যা কোমল পানীয় ও ক্যান্ডি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় অবস্থান ওষুধ ও চিকিৎসা খাতের, যা বৈশ্বিক চাহিদার ১২-১৫ শতাংশ। ট্যাবলেট ও সিরাপ তৈরিতে বার্ষিক প্রায় ১৪-১৭ হাজার মেট্রিক টন আঠা প্রয়োজন হয়।
প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত যত্ন খাতে মেকআপ ও ক্রিমের স্থায়িত্ব বাড়াতে বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৮-১০ শতাংশ বা ৯-১২ মেট্রিক টন আঠা ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া মুদ্রণ ও শিল্পকলা খাতে জলরঙ ও ছাপার কাজের জন্য প্রায় বৈশ্বিক চাহিদার ৫-৮ শতাংশ বা ৬-১০ হাজার মেট্রিক টন গাম অ্যারাবিক ব্যবহৃত হয়।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সাল নাগাদ এই চারটি প্রধান খাতে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গাম অ্যারাবিকের চাহিদা রয়েছে, যার বিশ্ববাজার মূল্য প্রায় ১.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গাম অ্যারাবিক ব্যবসায় সুদানের গুরুত্ব কতটা?
গাম অ্যারাবিক মূলত দুই ধরনের হয়—একটা হলো উন্নত মানের ‘হাশাব’, আর অন্যটি
হলো একটু কম দামী ‘তালহা’।
সুদানের আবহাওয়া হাশাব চাষের জন্য সবচেয়ে
ভালো, আর সারা বিশ্বে এটার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
ঠিক কতটুকু রপ্তানি বা উৎপাদন হয় তা সঠিকভাবে
বলা কঠিন, কারণ এই ব্যবসাটা অনেক আগে থেকেই খুব একটা স্বচ্ছ নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত
যে, বিশ্বের বেশিরভাগ গাম অ্যারাবিক সুদান থেকেই আসে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কী বদলেছে?
২০২৩ সালের এপ্রিলের পর সুদান থেকে সরকারিভাবে
রপ্তানি অনেক কমে গেছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বিশ্বের বাজারে এর চাহিদা কমেছে।
উল্টো দেখা যাচ্ছে, সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে রপ্তানি অনেক বেড়ে গেছে।
গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ হলো সুদানের আঠা
এখন পাচার হয়ে বাইরে যাচ্ছে এবং সেই টাকা যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই চোরাচালানের কিছু অংশ নিয়মিত সুদানী ব্যবসায়ীরা করে, যারা তাদের পণ্য সীমান্ত
পেরিয়ে চাদ, দক্ষিণ সুদান বা অন্য যে কোনও প্রতিবেশী দেশে নিয়ে যায় যেখানে তারা
পৌঁছাতে পারে।

কী বলছে কোম্পানিগুলো
ডাচ শান্তি সংগঠন প্যাক্স বা পিএএক্সের গবেষক জোরিস ভ্যান ডে স্যান্ড্ট আল জাজিরাকে
বলেন, “এই বাণিজ্যটি ঐতিহ্যগতভাবেই বেশ অস্বচ্ছ; এর কোনো স্পষ্ট বা নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান
নেই”।
পিএএক্সের গবেষকরা জানিয়েছেন, সুদানি
ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পার করে চাদ বা দক্ষিণ সুদানের মতো দেশে এই আঠা পাচার করছে। তারা
এটা করছে মূলত সরকারকে কর না দেওয়ার জন্য এবং আঠাটি যে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আসেনি—এমন শংসাপত্র দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে।
ভ্যান ডি স্যান্ড্ট এবং সহ-লেখক এস্থার বিজলের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ
সুদানি গাম অ্যারাবিক এখন দেশ থেকে পাচার হচ্ছে, যার ফলে এর উৎপত্তিস্থল খুঁজে পাওয়া
কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশী দেশে নেওয়ার পর স্থানীয় আঠার
সঙ্গে মিশিয়ে এটাকে সেই দেশের পণ্য হিসেবে চালানো হচ্ছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরএসএফ এখন সরাসরি এই
ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। আগে তারা শুধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কর নিত, কিন্তু এখন
তারা নিজেরাই গুদাম দখল করছে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে।
“শুরুর দিকে আরএসএফ গাম অ্যারাবিক সম্পর্কে কিছুই জানত না; অন্য যেকোনো পণ্যের
মতোই তারা শুধু এটি বহনকারীদের কাছ থেকে কর আদায় করত,” আল জাজিরাকে বলেন সুদানি রপ্তানিকারক
হাইসাম আবদেলমোনেইম।
এখন পরিস্থিতি বদলেছে বলে জানান প্যাক্সের গবেষক বিজল। তার ভাষায়, “সশস্ত্র
গোষ্ঠীগুলো রুট নিয়ন্ত্রণ করছে, মজুতাগার নিয়ন্ত্রণ করছে, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ
করছে, এবং এসব প্রতিটি স্তর থেকেই তারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।”
আল জাজিরা বিশ্বের বৃহত্তম গাম অ্যারাবিক রপ্তানিকারক দুটি ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ
করেছে, যারা সুদান থেকে কাঁচামাল নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করে।
নেক্সিরার একজন মুখপাত্র ইমেইলে বলেন, “সংঘাত শুরুর পর থেকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম
ধারাবাহিকভাবে মানিয়ে নিয়েছি। যখন স্থানীয় পরিস্থিতি আর ন্যূনতম পর্যায়ের স্বচ্ছতা
ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে দেয়নি, তখন আমরা ক্রয় কার্যক্রম স্থগিত করেছি”।
অ্যালান্ড অ্যান্ড রবার্টের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি “জন্ম
থেকে বাজার পর্যন্ত পণ্য শনাক্তে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে”।
গবেষকেরা বলছেন না যে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরাসরি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছ
থেকে পণ্য কিনছে।
তবে তাদের পণ্য উৎসের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান রয়ে গেছে বলে মনে করছেন
ভ্যান ডে স্যান্ড্ট। তার ভাষ্য, “ইউরোপের কোম্পানিগুলো যুদ্ধকে কোনোভাবেই সাহায্য করছে
না—এমন
নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে তা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন”।
সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব কী?
এই যুদ্ধ আর আঠা পাচারের চক্করে সবচেয়ে
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুদানের সাধারণ চাষীরা। কয়েক মিলিয়ন মানুষের রুটি-রুজি এই আঠার
ওপর নির্ভর করে। যুদ্ধের কারণে আঠার দাম বিশ্ববাজারে বেড়ে গেলেও সেই লাভের মুখ চাষীরা
দেখছে না। উল্টো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্যে তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে।
প্যাক্সে গবেষক বিজল বলেন, “যেসব ইউরোপীয় কোম্পানি এই আঠা আমদানি করে, এর মাধ্যমে
তারা আরএসএফকে লাভবান করেছে এবং যা যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখছে”।
“এটি (আঠা) লাখো সুদানি মানুষের জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু
একই সঙ্গে এটি এখন একটি খুবই অনিরাপদ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,” বলেন বিজল।
যুদ্ধের সময়ে এক টন হাশাবের (সবচেয়ে ভালো মানের আঠা) দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো উৎপাদকরাই সবচেয়ে কম আয় করেন। তবু গাম অ্যারাবিক থেকে
যারা আগে কোনোমতে জীবিকা চালাতেন, তাদের আয় এখন আরও কমেছে।