প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১ এএম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ব্যারেলপ্রতি দাম ৬৬.৫২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সুর নরম হওয়ায় আগের উত্থান আর টেকেনি। গ্রাফিকস: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপাতত ইরানে হামলা করা থেকে সরে আসার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন হয়েছে, যা গত অক্টোবর থেকে সবচেয়ে বেশি।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালকা অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম গত এক সপ্তাহে ১১ শতাংশ বাড়ার পর ব্যারেলপ্রতি ৪ শতাংশ কমে বৃহস্পতিবার ৬৪ ডলারের নিচে লেনদেন হয়।
হোয়াইট হাউসে বুধবার সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক সামরিক হ্স্তক্ষেপ এবং ইরানের তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে থেকে রক্ষা পেতে দেশটির সরকার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করবে।
তিনি বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে... বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জেনেছি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ‘অপেক্ষা কর ও দেখ’ নীতির কারণে তাৎক্ষণিক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা কমে গেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেন বা জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা এবং ইরানের তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার যে ভয় ছিল, তা আপাতত কেটে গেছে।
লন্ডনভিত্তিক জ্বালানি ও পণ্য ব্রোকারেজ হাউস পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে যে অস্থিরতা ও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, রাতারাতি তা অনেকখানি শান্ত হয়ে এসেছে। ঝুঁকির যে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম তেলের দামে যুক্ত হয়েছিল, তা এখন উধাও।”
২০২৬ সালের শুরু থেকেই তেলের বাজার বেশ অস্থিতিশীল ছিল। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ ইরানের অস্থিরতার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সংকটও তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছিল।
এছাড়া কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়া এবং ড্রোন হামলার খবরও দামের ঊর্ধ্বগতিতে প্রভাব ফেলেছিল।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর বাজারে এখন নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিষয়েও কথা বলেছেন। ভেনেজুয়েলা ওপেকের সদস্য থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি মনে করি তাদের জন্য ওপেকের সদস্য থাকাটাই ভালো। তবে এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো পরিস্থিতি হবে কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। ওয়াশিংটন এ বিষয়ে এখনো কারাকাসের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।”
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত এক মাসে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কিছুটা উত্থান-পতন দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। আবার প্রায় ৪-৭ শতাংশ কমেছেও। এটি মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহের পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে দাম প্রায় ব্যারেলপ্রতি ৬৪-৬৫ ডলার হয়েছিল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার একটি সময় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ব্যারেলপ্রতি দাম ৬৬.৫২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সুর নরম হওয়ায় আগের উত্থান আর টেকেনি।