বাণিজ্য মেলা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮ পিএম
পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে চলছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলা শুরুর ১১তম দিনে মঙ্গলবার নানা পণ্যসামগ্রীতে ছাড় দেখে খুশি ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তবে অনেক স্টলে তেমন কোনো বেচাকেনা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্টল মালিকরা।
অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবারও দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ পাশের এলাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন। কসমেটিকস, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া খাবারের স্টলগুলোও ছিল অনেক সরব। দর্শণার্থীদের কারও আকর্ষণ ঘর সাজানো সামগ্রী ঘিরে, কারও আবার নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে। এসব দর্শণার্থী ও ক্রেতার পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতোই। তরুণ, বয়স্কদের পাশাপাশি বাদ যায়নি শিশুরাও।
মেলা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রেখেছেন ৯০০’র বেশি পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী। ক্রেতা দর্শনার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বিআরটিসি বাস। বিআরটিসি বাসযোগে ঢাকা-নরসিংদী-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় সহজেই আসতে পারছেন।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র। কারও ব্যস্ততা ঘরসজ্জার পণ্য খুঁজতে। অনেকে আবার পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। কারও কারও নজর ছাড়ের দিকে। তাই ছুটছেন দোকান থেকে দোকানে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ও পণ্য ছাড় দিচ্ছেন তারা। জেলখানার কারা বন্ধুদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পণ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। এ ছাড়া মেলার আকর্ষণ হিসেবে জুলাই আন্দোলন, ৫২ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি ‘বাংলাদেশ স্কয়ারে’ ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
থ্রিপিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালিত নানা ধরনের পণ্যসামগ্রীতে ছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ছাড়ের ছড়াছড়িতে নিজের পছন্দের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে নিচ্ছেন। এ ছাড়া ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নিত্য প্রয়োজনেও অ্যালুমিনিয়াম জিনিসপত্রসহ প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে সাজানো নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, গৃহসজ্জা, কসমেটিকস কিংবা পোশাক আইটেম কিনতে বাণিজ্য মেলায় ছুটে এসেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারী পণ্য থেকে শুরু করে একেবারে ছোট পণ্যটি একসঙ্গে পেয়ে ক্রেতারাও বেজায় খুশি।
বিশেষ করে, মেলায় শিশু বিনোদন কেন্দ্রে প্যাডেল বোট, হানিছি, স্লিপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ নিচ্ছেন শিশুরা। হাজী বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ নানা খাবার স্টলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও স্টল মালিকরা বলছেন, খোলামেলা পরিবেশ হওয়ায় এবং ছাড়ের ছড়াছড়ি হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখছেন ও ক্রয় করছেন। ছাড়ের সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি করে দিলে বেচাকেনা আরও বাড়বে। তবে গতবারের তুলনায় এবার ক্রেতা দর্শনার্থীদের সমাগম অনেকটা কম।
বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর মেলার প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে বড়দের জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।