× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানিতে নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৪ পিএম

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৪ পিএম

প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানিতে নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি

বিশ্ববাজারে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজিং পণ্যের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পেরেছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার অভাবে এই সম্ভাবনাময় খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারছে না।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা ভিঞ্চিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এএসকে ও বিজিএপিএমইএ।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহরিয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে প্যাকেজিং পণ্যের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা সেই বাজারে যথাযথ অংশ নিতে পারছি না। মূল কারণ হলো সরাসরি রপ্তানিতে কোনো প্রণোদনা না থাকা এবং নীতিগত সহায়তার অভাব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানি করলে কোনো রপ্তানি প্রণোদনা পাওয়া যায় না। অথচ চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এই খাতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি প্রণোদনা দিয়ে থাকে। আমাদের সেক্টর কখনোই রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় আসেনি, যা বড় একটি প্রতিবন্ধকতা।

নীতিগত বাধার কথা তুলে ধরে বিজিএপিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ৩০০ জিএসএমের নিচের কাগজ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কর দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ৫৮ থেকে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হয়, যা আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি এনবিআর সংক্রান্ত একটি বড় নীতিগত সমস্যা।

তিনি দাবি করেন, গার্মেন্টস খাতের জন্য যেসব নীতিগত ও ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত সেগুলো থেকে বঞ্চিত। একইভাবে ব্যাংক ফাইন্যান্সিং, কাস্টমস সুবিধা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগুলো বাস্তবে আমাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না। ফলে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

মো. শাহরিয়ার আরও বলেন, আমরা ১০০ শতাংশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য দেশেই উৎপাদন করতে সক্ষম। কেউ যদি দাবি করে কোনো পণ্য বাংলাদেশে তৈরি হয় না, তাহলে আমরা সরাসরি ফ্যাক্টরিতে নিয়ে গিয়ে উৎপাদন দেখাতে প্রস্তুত।

তিনি জানান, আরএমজি খাতের জন্য এরই মধ্যে দেশে যে অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও কারখানা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করেই প্যাকেজিং পণ্যের সরাসরি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। এতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ বা জনবল সৃষ্টির প্রয়োজন হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় এবং নীতিগত সহায়তার বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সরকার এ খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএপিএমইএ সভাপতি বলেন, গার্মেন্টস খাতের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বরং আমরা তাদেরই শক্তিশালী সাপোর্টিং ইন্ডাস্ট্রি। এই খাত এগোলে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান দুটোই বাড়বে।

গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ মেলা শুরু বুধবার

আগামী বুধবার রাজধানীর শুরু হচ্ছে ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’। গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য, কাঁচামাল, ব্যবহৃত মেশিনারিজ, অ্যাপারেল, ইয়ার্ন ও ফেব্রিক্সসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে একত্রে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কোঅর্গানাইজার হিসেবে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রা. লিমিটেডের সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির (আইসিসিবি) হল নম্বর ২, ৫, ৬ ও এক্সপো জোনে অনুষ্ঠিত হবে গ্যাপেক্সপোর ১৫তম আয়োজন। একই সময়ে কনকারেন্ট ইভেন্ট হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে ‘গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ-২০২৬’। এ বছর চারটি মূল হল ও হ্যাঙ্গারসহ মোট ১০টি হলে মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে এবং থাকবে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি স্টল। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানিসহ ১৮টির বেশি দেশ।

২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো গ্যাপেক্সপো আয়োজন করে বিজিএপিএমইএ। সে সময় মাত্র ৩৬ জন এক্সিবিটর অংশ নিলেও ধারাবাহিকভাবে এ পর্যন্ত ১৪টি গ্যাপেক্সপো সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী বুধবার বেলা ১১টায় আইসিসিবির ২ নম্বর হলে এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে থাকবেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান, এফসিএমএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান এবং বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

এ ছাড়া ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় বিজিএপিএমইএ সদস্যদের জন্য গালা নাইট ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিতু রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ১৬ জানুয়ারি বেলা ৩টায় ‘পেপার প্যাকেজিং পণ্যের সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারি-বেসরকারি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। মেলার সমাপনী ও অ্যাওয়ার্ড প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠান হবে ১৭ জানুয়ারি বেলা ৩টায়।

বিজিএপিএমইএ জানায়, মেলাটির ব্যাপক প্রচারের জন্য সংগঠনটির ২ হাজার ১০০ সদস্য প্রতিষ্ঠান, বিজিএমইএর চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান, বিকেএমইএর সহস্রাধিক সদস্য, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৫০ হাজারের বেশি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা