জাতিসংঘের পূর্বাভাস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম
চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়বে বলে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে জাতিসংঘ, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কহার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে এই নিম্ন প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগে অর্থাৎ ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গড় ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার সমন্বয় বিশ্বব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে, যা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তবে জাতিসংঘ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসায় প্রবৃদ্ধি টিকে থাকলেও কাঠামোগত দুর্বলতা এখনও রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। জাপানের অর্থনীতি চলতি বছরে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ১ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বিশেষ করে গাড়ি রপ্তানি চাপের মুখে থাকবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা বেড়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে।
বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এই তালিকায় বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো হবে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
পূর্ব এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা গত বছরের ৪ দশমিক ৯ শতাংশের চেয়ে কম। চীনের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ৯ শতাংশের নিচে।
আফ্রিকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে বাড়বÑ ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে উচ্চ ঋণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নামলেও ২০২৭ সালে আবার বেড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।