বাণিজ্য মেলা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮ পিএম
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পঞ্চম দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম বেড়েছে। ক্রেতা সাধারণ বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে ভিড় করছেন। অধিক বেচাকেনার লক্ষ্যে অনেক স্টল মালিকরা পণ্যসামগ্রীতে ছাড় দিচ্ছেন।
মেলা উদ্বোধনের চার দিন অতিবাহিত হলেও প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি অনেকটা কম ছিল। বুধবার কুয়াশা এবং শীত কিছুটা কম হওয়ায় মেলার ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অপরদিকে, এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক উন্নয়ন কাজ চলায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি এবং ধুলাবালির কারণে দর্শনার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেকেই ধুলাবালি ও শীতের কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসতে সাহস করছেন না। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক স্টলে নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফুটপাতের মালামাল এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্টলে সাজানো হয়েছে। এতে করে পণ্যসামগ্রীর মান নিয়ে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে মাটির স্তূপ দিয়ে রাখা, ভেকু দিয়ে সড়ক খনন এবং রাস্তার কাজ চলমান থাকায় যানজট ও ধুলাবালিতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আসতে গিয়ে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে দর্শনার্থীদের মনে ক্ষোভের শেষ নেই।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আব্দুল ওহাব বলেন, মেলায় যেসব খাবারের স্টল দেওয়া হয়েছে সেখানে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে। তারপরে খাবার অনেকটাই নিম্নমানের। ধুলাবালির কারণে খাবার স্টলগুলোতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বাবু মিয়া নামে আরেকজন বলেন, মনে করেছিলাম গতবারের চেয়েও এবার পণ্যসামগ্রীর মান অত্যন্ত ভালো হবে। মেলা ঘুরে এবং পণ্যসামগ্রী দেখে তা মনে হয়নি।
ইপিবি জানিয়েছেন, মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ প্রাঙ্গণ, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২৪টি দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। এসব স্টল এবং প্যাভিলিয়নে ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কয়েকদিনের বানানো বিভিন্ন পণ্য, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কসমেটিক, পরিবারের ব্যবহারের জন্য নানা ধরনের জিনিসপত্রসহ হরেক রকমের পণ্যসামগ্রী ওঠানো হয়েছে। অনেকে মালামালে বিশেষ ছাড় দিয়ে বেচাকেনা করছেন। মেলায় ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
মেলাকে প্রাণবন্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ আয়োজন করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মেলায় যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে কাজ করছেন ৯ শতাধিক পুলিশ। রয়েছে একাধিক মোবাইল টিমসহ বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট। যানজট নিরসনে সড়কে রয়েছে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ।
মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারছেন। আবার অনেকেই সরেজমিনে টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে গেট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে রয়েছে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক । দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে ৩টি সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক বুথ। পুলিশের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে সেনাবাহিনীর অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের (‘গ’ সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মেলার পঞ্চম দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সমাগম অনেকটা বেড়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা দিচ্ছি। কোনোপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরভাবে মেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এভাবে সামনের দিনগুলো ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিবাহিত করব।