প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৫ পিএম
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ছয় দেশ থেকে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টন জ্বালানি তেল এবং ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার ছয় দেশ থেকে মোট ১৩ লাখ ৮০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৮২৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের মধ্যে এসব তেল আমদানি করা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মধ্যে গ্যাস অয়েল রয়েছে ৮ লাখ ৯০ হাজার টন, জেট এ-১ ফুয়েল ১ লাখ ৮৫ হাজার, গ্যাসোলিন ১ লাখ, ফার্নেস অয়েল ১ লাখ ৭৫ হাজার টন এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার টন। এসব তেল সরবরাহ করবে চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, ভারতের আইওসিএল, থাইল্যান্ডের ওকিউটি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল ও ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।
পরিশোধিত তেলের পাশাপাশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আবুধাবির এডনক থেকে ২০২৬ সালের জন্য ৭ লাখ টন মারবান গ্রেডের ক্রুড অয়েল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, এডনক থেকে মারবান গ্রেডের এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেলের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৮৪ দশমিক ২৯ ডলার। মারবান অয়েলের ক্ষেত্রে এক টনে গড়ে ৭ দশমিক ৬৫ ব্যারেল হিসেবে হিসাব করা হয়েছে।
একই বৈঠকে সৌদি আরবের সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানি আরামকো থেকে ৮ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। জিটুজি চুক্তির আওতায় এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ৩২০ কোটি ২২ লাখ টাকা। অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুডের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭ দশমিক ৫৩ ডলার এবং এক টনে গড়ে ৭ দশমিক ৩৫ ব্যারেল হিসেবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানির পাশাপাশি ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রমজান মাস সামনে রেখে বড় পরিসরে সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনা হবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত পৌঁছতে সব ধরনের খরচসহ প্রতি লিটারে দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে মোট ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকায় এ সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য ব্যয় যোগ করে এই মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।
ভোজ্য তেলের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ডাল সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দরপত্র আহ্বানের পর পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা চট্টগ্রামের এমএস পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা দরে এই মসুর ডাল কেনা হবে।
এদিকে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা দরে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।