বিবিএসের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫১ পিএম
নানা প্রদক্ষেপেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। এটি নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশের তুলনায় প্রায় ০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। এছাড়া খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এই চিত্র উঠে আসে। সাধারণত শীতকালে সবজির ভরা মৌসুমে খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রবণতা থাকে, কিন্তু সিপিআই প্রতিবেদনে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
বিবিএস জানায়, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রধান কারণ হলো খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেখানে খরচ হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা।
সিপিআই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে, যা নভেম্বরে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের নভেম্বর) খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে কমেছে।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও দাম বেড়েছে। ডিসেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যবহির্ভূত খাতে সামান্য বৃদ্ধি হলেও বছরের ভিত্তিতে এটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গ্রাম ও শহরের পার্থক্য
গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। শহরে এই হার নভেম্বরের ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে ডিসেম্বর মাসে বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের মূল্যস্ফীতির পার্থক্য কমলেও শহরে সামান্য বেশি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধি বনাম মূল্যস্ফীতি
ডিসেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় কম। অর্থাৎ মানুষ যতটা দ্রুত জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাচ্ছে, তাদের আয় ততটা দ্রুত বাড়ছে না। ফলে দৈনন্দিন জীবনে ক্রয়ক্ষমতার চাপ আরও বেড়েছে।
তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিবিএসের এই তথ্য থেকে স্পষ্ট, দেশে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের ওপর এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
মূল্যস্ফীতি যেভাবে প্রভাব ফেলে
মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো। আপনার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আপনার আয় না বাড়লে আপনাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হবে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।
বিবিএস বলছে, গত ডিসেম্বরে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এর মানে হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম কমে যাওয়া নয়। অন্যান্য মাসের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট মাসে মূল্যবৃদ্ধি হয়তো কিছুটা কম হয়েছে, এটাই বোঝায়।