প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৯ পিএম
২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সময়োপযোগী, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক আস্থা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিসিসিআই মনে করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। সংগঠনটির মতে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও টেকসই করবে।
২০২৬ সালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা হ্রাস, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত ও অবকাঠামোগত পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ডিসিসিআই। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
চলমান জ্বালানি সংকট ও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতির পাশাপাশি দ্রুত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই।
বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের আর্থিক খাত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এর ফলে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার বিবেচনা এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ বাড়াতে আরও কার্যকর প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের ওপর সরকারি নির্ভরতা কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে আর্থিক খাতের তারল্য সংকট অনেকাংশে প্রশমিত হবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার। সংগঠনটির আশঙ্কা, এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর নামে বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি না করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর আইনের আধুনিকায়ন ও সংস্কার এবং নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছে ডিসিসিআই।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা চেম্বার। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডিসিসিআই মনে করে, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, নিরবচ্ছিন্ন শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং যুক্তিসংগত কর ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার— এই বিষয়গুলোই ২০২৬ সালে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।