সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা থাকলে পরে প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ মিলবে। তবে কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি আমানতকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আর প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ক্ষেত্রে সাত লাখ টাকার বেশি অংশ পাঁচ বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তর করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক রেটের তুলনায় ১ শতাংশ কম হারে অর্থাৎ ৩ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে।
ব্যক্তি আমানতকারীরা দুই বছর পর তাদের সম্পূর্ণ আমানত উত্তোলন করতে পারবেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুয়িটি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও বহুজাতিক কোম্পানি, রেজল্যুশনের আওতাভুক্ত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাঁচটি ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় চলে গেছে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে স্থায়ী আমানতের টাকা তোলা যাবে না। তবে আমানতকারীরা তাদের বর্তমান জমা করা অর্থের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারবেন। আর নতুন করে জমা দেওয়া আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকে কর্মরত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে যুক্ত হবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনসাপেক্ষে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনে চাকরির শর্তাবলি নতুন করে নির্ধারণ করতে পারবে। তবে কেউ যদি লিখিতভাবে চাকরি না করার ইচ্ছা জানান, তাহলে তিনি ইস্তফা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্যাংক রেজল্যুশন-২০২৫ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রেজল্যুশন স্কিম কার্যকর হওয়ার দিন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভিন্ন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর হওয়া ব্যাংকগুলোর নামে থাকা সব ব্যাংকিং কাগজপত্র বৈধ থাকবে। অর্থাৎ আগের ব্যাংকের নামে ছাপানো বা ব্যবহৃত চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, টাকা উত্তোলনের স্লিপ, ভাউচার, ফরম, রসিদ, আবেদনপত্রসহ সব ধরনের ব্যাংকিং দলিল এখন হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের অনুমোদিত ও বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
সহজ কথায়, গ্রাহকদের নতুন কোনো কাগজপত্র নিতে বা বদলাতে আপাতত কোনো সমস্যা হবে না; আগের ব্যাংকের কাগজপত্র দিয়েই স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানো যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকদের জমা টাকা পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে এবং আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলবে। এই রেজল্যুশন প্রক্রিয়া ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ।
নতুন ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন জোরদার করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং পুরো আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।
বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির স্থায়ী আমানত এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনে রূপান্তর করা হবে। তবে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জয়েন্ট ভেঞ্চার, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি দূতাবাস এ বিধানের আওতায় পড়বে না।