× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উন্নয়ন কার্যক্রমে খরা, মূল্যস্ফীতির চাপ

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৩ পিএম

উন্নয়ন কার্যক্রমে খরা, মূল্যস্ফীতির চাপ

বিদায় নিচ্ছে ২০২৫ সাল। এ বছরে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে চাপে রেখেছে মূল্যস্ফীতি। ভরা মৌসুমে আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল ও চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাপে পড়ে ভোক্তা। 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, বিগত সময়ে প্রকল্পগুলো একটি মাফিয়া চক্রের হাতে ছিল। মাফিয়ারা রেল, সড়ক সেতু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত ছিল। এসব কারণে অহেতুক এবং অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। যেগুলো আমরা বাতিল করেছি। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য থমকে গিয়েছিল। তবে এখন ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। 

মূল্যস্ফীতির ব্যাপারে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে কারসাজি করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হয়। পরে সরকারের উদ্যোগে কমলেও যতটা ওঠে ততটা আর কমে না। সঠিক মনিটরিং এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রেপো বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সেটা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি বলে মত তাদের।

ইতিহাসে সর্বনিম্ন উন্নয়ন

ক্যালেন্ডার বছর ২০২৫-এ বাংলাদেশের দুটি অর্থবছরের ছয় মাস করে পড়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি নেই বরং ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায়। ওই বছরে বাস্তবায়নের হার ৬৮ শতাংশেরও কম ছিল।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। বিদায়ি অর্থবছরে সংস্থার নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নসহ সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। 

চলতি অর্থবছরের ছয় মাস পার হলেও এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য ৫ মাসের দেওয়া আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি টাকা; যা মোট বরাদ্দের মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যেন কুমিরের ঘুমে রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা ৩৬৮টি প্রকল্প গড়ে কাজ ৯ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। আর ৫ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে ১০৮টি প্রকল্পের। অথচ এডিপির ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ তাদের দখলে। টাকার অঙ্কে ৬১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

মূল্যস্ফীতি কমলেও নিয়ন্ত্রণে নেই

প্রায় ১১ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে শুরু হয় ২০২৫ সাল। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে তা নেমেছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে। সার্বিক মূল্যস্ফীতিও ৯ দশমিক ৯৪ থেকে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমেছে। মূল্যস্ফীতি কাগজে-কলমে কিছুটা কমলেও সেটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই ছিল। চাল-তেল-পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণের নাগালে ছিল না। 

বছরের বেশিরভাগ সময় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও শেষ তিন মাসে হঠাৎ দাম বেড়ে দেশি পেঁয়াজ কেজি ১৭০ টাকায় ওঠে। ভারত থেকে আমদানি ও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দাম কমে প্রায় ১০০ টাকায় নামে। 

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যও বলছে, ২০২৫ সালে চালের মূল্য বেড়েছে গড়ে সোয়া ৬ শতাংশ, আটায় ১০ শতাংশ, মসুর ডালে প্রায় ১৫ শতাংশ, সয়াবিন তেলে ১১ শতাংশ। এমনকি দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও কয়েক দফায় মূল্য বেড়েছে ২০ শতাংশ। সবজির মধ্যে বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। বছরের অধিকাংশ সময় করলা, টমেটো, কাঁচামরিচ, শসাসহ প্রায় সবজিই ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হয়েছে ভোক্তাদের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। পাইকারি পর্যায়ে মনোপলি ভাঙা, খাদ্য আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরাসরি বিপণন চ্যানেল শক্তিশালী করতে হবে। না হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে থাকবেই।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা