সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৯ পিএম
দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ অনুযায়ী আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষিত ও প্রাথমিকভাবে আমানত উত্তোলন সুবিধা প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে রেজল্যুশনের আওতাধীন ব্যাংকসমূহে আমানত সুরক্ষা তহবিল হতে প্রয়োজনীয় অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। কোন গ্রাহক এ অর্থ উত্তোলন না করলে তিনি তার স্থিতির উপর বাজারভিত্তিক মুনাফা প্রাপ্য হবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, রেজল্যুশন স্কিম কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভিন্ন কোনো নির্দেশ জারি না করা পর্যন্ত, হস্তান্তরকারী ব্যাংকের নামে বা পরিচয়ে মুদ্রিত, প্রকাশিত বা ব্যবহৃত সকল চেকবহি, ডিপোজিট স্লিপ, উত্তোলন স্লিপ, ভাউচার, ফরম, রসিদ, আবেদনপত্র এবং অন্যান্য সকল ব্যাংকিং দলিস, যে নামেই বা যে পরিচয়েই মুদ্রিত বা উপস্থাপিত হউক না কেন- সব দলিলই হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংকের বৈধ ও অনুমোদিত দলিল। নির্ধারিত মেয়াদ পূর্তির আগে স্থায়ী আমানত পরিশোধযোগ্য নয়। আমানতকারীরা তাদের বিদ্যমান বকেয়া স্থিতির বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারবে। তবে, নতুন আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।
একীভূতকরণের কারণ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আলোচিত ৫ ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানত, মূলধন ও সম্পদের ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বিগত এক বছরের অধিককাল যাবত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ তারল্য সহায়তা প্রদান সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর প্রত্যাশিত আর্থিক উন্নতি হয়নি। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় আনা হয় এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার জন্য ০৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিটি ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রেজল্যুশন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সম্মিলিতি ইসলামী ব্যাংকের নিকট সংশ্লিষ্ট ৫টি ব্যাংকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায় ও চুক্তিসমূহ আইনগতভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকী ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানীর স্থায়ী আমানত এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনে রূপান্তর করা হবে। তবে, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জয়েন্ট ভেঞ্চার, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি দূতাবাস এ বিধানের আওতায় পড়বে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাঁচটি ব্যাংকে কর্মরত, অভিযোগ বা মামলা নেই এমন সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে স্থানান্তরিত হবেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিচালনা পর্ষদ চাকরির শর্তাবলি পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে। কেউ লিখিতভাবে চাকরি না করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ইস্তফা দেয়ার সুযোগ থাকবে।
আমানতের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায়, নতুন ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকের জমা অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে এবং লেনদেন পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে চলবে। এই রেজল্যুশন প্রক্রিয়া-ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা সৃষ্টির জন্য একটি সংস্কারমূলক ও সক্রিয় পদক্ষেপ। নতুন ব্যাংকটিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গভার্ন্যান্স শক্তিশালীকরণে সবোর্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তত্ত্বাবধানে উল্লিখিত সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আশা করা যায় যে, আমানতকারীর অর্থের সুরক্ষা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হবে।