প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৪ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ প্রতিশ্রুতিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১২১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৩ শতাংশ বেশি। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ৫২ কোটি ২৬ লাখ ডলার।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রকাশিত জুলাই-নভেম্বরের বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
ইআরডি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, সরকার পতন, প্রশাসনে অস্থিরতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার সংকেটর কারণে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কম ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় প্রতিশ্রুতি আদায়ের পরিমাণ বাড়ছে।
ইআরডি সূত্রে আরও জানা গেছে, গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে। তবে জুলাই-নভেম্বর সময়ে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা, প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধও করেছে বাংলাদেশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ ছাড় করেছে ১৯৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ১৮৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার এবং অনুদান হিসেবে এসেছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে অর্থ ছাড় হয় ১৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে অনুদান ছিল ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং ঋণ ১৩৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
বরাবরের মতো বেড়েছে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ হয়েছে ১৮৯ কোটি ১ লাখ ডলার। এর মধ্যে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৭ কোটি ৪৬ লাখ ডলার এবং আসল ১২১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল পরিশোধ হয়েছে ১০৫ কোটি ৫৯ লাখ এবং সুদ ৬৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বড় বড় বন্ধুপ্রতিম দেশ কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই তালিকায় আছে ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপান। এই চার দেশ নতুন করে প্রতিশ্রুতি না দিলেও আগে নেওয়া ঋণের অর্থ ছাড় করেছে। এর পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) গত ৫ মাসে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া। দেশটি ৫ মাসে দিয়েছে ৫৫ কোটি ডলার। এরপর আছে বিশ্বব্যাংক। এই সংস্থা দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার। আর এডিবি দিয়েছে সাড়ে ৩৩ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে সাড়ে ১৯ কোটি ও ৯ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে সাড়ে ৮ কোটি ডলার।