× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এডিবির ঋণে আধুনিক হচ্ছে রেল যোগাযোগ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৬ পিএম

এডিবির ঋণে আধুনিক হচ্ছে রেল যোগাযোগ

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের রেল যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়ন এবং নতুন বাইপাস নির্মাণে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৭ পয়সা ধরে। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এডিবির মধ্যে এ সংক্রান্ত ঋণ চুক্তি সই হয়। সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং ওই চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি ও প্রকল্প নথি অনুযায়ী, এডিবির অর্থে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইন আধুনিকায়ন এবং পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার নতুন বাইপাস লাইন নির্মাণ করা হবে। ঢাকাগামী বা ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম স্টেশনে থেমে রিভার্স নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। বাইপাস চালু হলে তখন আর চট্টগ্রামে থামতে হবে না। সরাসরি ট্রেন চলবে এবং ৩০ মিনিটের বেশি সময় কমে আসবে যাত্রাপথে।

প্রকল্পের আওতায় উঁচু করে রেলপথ নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ঢাল স্থিতিশীলতার মতো জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থাপন করা হবে কম্পিউটারাইজড ইন্টারলকিং সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ডুয়েল গেজ রেললাইন। তিনটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে, যেখানে নারীসহ সব যাত্রীর জন্য অধিক নিরাপদ ও জেন্ডার-সমর্থিত সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, ‘প্রকল্পটি ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রেলসেবা নির্ভরযোগ্য ও সক্ষম করবে। এতে বিশেষ করে পর্যটন ও মৎস্য শিল্পে বড় সহায়ক ভূমিকা হবে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী পরিবহন ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে উন্নীত হতে পারবে।’

তিনি জানান, ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এই করিডোর দিয়ে দেশের মোট যাত্রী পরিবহনের ৩২ শতাংশ ও পণ্য পরিবহনের ৫৫ শতাংশ পরিচালিত হবে।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পে ৩০টি জ্বালানিসাশ্রয়ী মিটারগেজ লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম কেনা হবে, যা জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমাবে। তদারকি, লোকোমোটিভ পরিচালনা এবং রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিংয়ের জন্য বিশেষ কৌশল প্রণয়নের কথাও উল্লেখ আছে।

এডিবির কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী প্রকল্পটি প্রতিযোগিতা, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনের লক্ষ্যকে সমর্থন করে। নথিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেলভিত্তিক পরিবহন বাড়ানো হবে, ফলশ্রুতিতে নির্গমন কমবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার হবে।

ঋণ কাঠামোয় দেখা যায়, এডিবির সাধারণ মূলধন তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের একটি নিয়মিত ঋণ এবং ১৮ কোটি ডলারের একটি রেয়াতি ঋণ পাওয়া যাবে। দুটি ঋণেরই মেয়াদ ২৫ বছর, যার মধ্যে প্রথম ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। নিয়মিত ঋণের ক্ষেত্রে ফ্লেক্সিবল লোন প্রোডাক্ট অনুযায়ী সুদের হার নির্ধারণ হবে, বছরে ০.১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ এবং ০.১ শতাংশ ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম ধার্য থাকবে। রেয়াতি ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার হবে বছরে ২ শতাংশ।

প্রকল্পের মোট জলবায়ু অর্থায়ন ৯৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ৮৮ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রশমন খরচ এবং বাকি ১০ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মিটিগেশন খরচ। এডিবির নিয়মিত ঋণে অ্যাডাপটেশন খরচের ৪৪ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং মিটিগেশন খরচের ৬ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার ডলার আসবে।

এডিবি ট্র্যাক নির্মাণ, লোকোমোটিভ ক্রয়, পরামর্শক নিয়োগ, নির্মাণ তদারকি এবং বাস্তবায়নকালে আর্থিক চার্জ পরিশোধে অর্থ দেবে। ভূমি অধিগ্রহণ, কর-শুল্ক এবং প্রশাসনিক ব্যয় সরকার বহন করবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রকল্পকে লাভজনক বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অপারেশন পর্যায়ে ২৫ বছর ধরে যাত্রা সময় সাশ্রয় এবং সড়ক পরিবহনের পরিবর্তে রেল ব্যবহারে পরিচালন ব্যয় কমার সুফল ধরা হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য সীমা ৯ শতাংশের ওপরে।

আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পের আর্থিক মুনাফা নেতিবাচক এবং মূলধনি বিনিয়োগের খরচ রাজস্ব দিয়ে কাভার করা সম্ভব নয়। ফলে প্রকল্প পরিচালকের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহনের সক্ষমতাই মূল বিবেচ্য ধরা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় কাভার হবে, তবে সমগ্র রেল নেটওয়ার্কের অপারেশন, মেইনটেন্যান্স ব্যয় নিজস্ব রাজস্ব দিয়ে কাভার করতে পারে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রায় অর্ধেক ব্যয় সরকার বাজেট বরাদ্দ দিয়ে বহন করে। তাই বাজেট কমে গেলে সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ঝুঁকি বাড়বে, যার ঝুঁকি রেটিং ‘উচ্চ’ ধরা হয়েছে। এ ঝুঁকি কমাতে সরকারকে যথাযথ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আয় বাড়াতে ভাড়া সমন্বয় এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা