প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ খাতের প্রণোদনাও পাচ্ছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। কৃষি ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিএমএসএমই খাতে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিএমএসএমই খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৭ মার্চ জারি করা এক সার্কুলারে জানিয়েছে, চলতি ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতির ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে থাকতে হবে। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে কৃষি ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বর শেষে কৃষি ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৩৫ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ঋণ স্থিতি ৬ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ১৯ শতাংশ।
এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে সিএমএসএমই খাতে ঋণের চাহিদা কম। কারণ এ খাতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার বাজার চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সামগ্রিক বাজারেও চাহিদা কমেছে। ফলে ঋণ নেওয়ার আগ্রহও কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ঋণ বিতরণে বাড়তি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এতে একটি ঋণ নিষ্পত্তি করতে আগের তুলনায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ বেশি সময় লাগছে। এটিও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণে ব্যর্থতার একটি কারণ।
এদিকে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু রেখেছে। গত ১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্কিমটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
২০২২ সালে চালু হওয়া এই স্কিমের মেয়াদ গত জুলাইয়ে শেষ হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই বিশেষ স্কিমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ শতাংশ সুদে তহবিল পায়। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষি ব্যাংক এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেতে সমস্যায় পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।