সিএফটি কনফারেন্স
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংক খাতে একটি শক্তিশালী, ঝুঁকিভিত্তিক ও টেকসই কমপ্লায়েন্স কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পাশাপাশি শাখা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের (ব্যামেলকো) ভূমিকা আরও সুসংহত ও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রথমবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘এএমএল অ্যান্ড সিএফটি কনফারেন্স ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।
মফিজুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ নীতিগত দিকনির্দেশনা ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। নিয়মিত সক্ষমতা উন্নয়ন, কার্যকর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক লেনদেন যথাসময়ে শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন দাখিলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান। এনআরবিসি ব্যাংকের প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও পরিপালন কর্মকর্তা (ক্যামেলকো) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক রাজিব হাসান ও মো. হাফিজুর রহমান খান এবং এআইনির্ভর অনলাইন প্লাটফর্ম ‘কনভে’-এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা, গ্রাহক শনাক্তকরণ (কেওয়াইসি), লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর/ এসএআর) প্রস্তুত ও দাখিলসহ শাখা পর্যায়ের কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা ও কেস স্টাডি উপস্থাপনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ড. মো. তৌহিদুল আলম খান আরও বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি অগ্রাধিকারভিত্তিতে পরিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে শাখা পর্যায়ে ব্যামেলকো কর্মকর্তারা কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনার প্রথম সারির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং শাখা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করা সম্ভব। সব কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।