প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৮ পিএম
লোকসান থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে টেক্সটাইল শিল্প। স্থানীয় বাজারে সুতার চাহিদার পতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এই সংকট বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত এক বছরে অন্তত ৫৮টি স্পিনিং ও ডায়িং মিল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু মিল আংশিক উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানা ভাড়া দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই উপায়ও স্থায়ী হয়নি। সংগঠনটির হিসাব বলছে, ইতোমধ্যে বেকার হয়েছেন লাখেরও বেশি শ্রমিক।
খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে মালিকদের মূল দাবি, স্থানীয় বাজারে সুতা বিক্রিতে বর্তমান ১ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, রপ্তানির জন্য দেশীয় মিল থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ সুতা কেনা বাধ্যতামূলক করা এবং সুতি সুতা আমদানিতে সাময়িক সেফগার্ড ডিউটি আরোপ। এ বিষয়ে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, দেশে বিভিন্ন নীতি সহায়তা কমে যাওয়ার বিপরীতে ভারত নতুন নতুন ভর্তুকি দিচ্ছে। আরডিটিইপি স্কিমের আওতায় ক্যাশব্যাক, মজুরি ভর্তুকি, মূলধন সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা প্রতি কেজিতে প্রায় ০.৩০ ডলার সমপরিমাণ প্রণোদনা পাচ্ছে, যা তাদের বাংলাদেশে কম দামে সুতা বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছে। বিটিএমএর তথ্যমতে, গত এক বছরে ভারত থেকে সুতার আমদানি ৪৮ শতাংশ বেড়েছে এবং বাংলাদেশের বাজার এখন ভারতের মোট সুতার রপ্তানির প্রায় অর্ধেক।
এ অবস্থায় দেশীয় মিল মালিকরা লোকসানে উৎপাদন চালাচ্ছেন। একজন মালিক জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে স্থানীয় বাজারে ৫৩-কাউন্টের সুতার দাম প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা কমে গেছে, ফলে প্রতি কেজিতে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা। শুধু নভেম্বরে তার মিলটির নিট লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
অনেক মিল মালিক সতর্ক করেছেন, সংকট চলতে থাকলে আগামী বছরেই আরও অর্ধেকের বেশি মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে শুধু বিনিয়োগ ও উৎপাদনই হুমকিতে পড়বে না, শ্রমিক বেকারত্ব বাড়বে, সরকারের ভ্যাট-রাজস্বও কমবে। স্থানীয় বাজারে সুতার ওপর প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ভ্যাট আরোপের ফলে বিক্রি কমলে ভ্যাট আয়ও নিম্নমুখী হচ্ছে বলে মালিকদের অভিযোগ।
টেক্সটাইল মালিকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ব্যাংকঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশ হয়েছে, টাকার অবমূল্যায়নে চলতি মূলধন সংকট তীব্র হয়েছে এবং রপ্তানি নগদ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এদিকে ইউটিলিটি পরিষেবার ব্যয় বেড়েছে।