প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৭ পিএম
বাংলা ভাষার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘কাগজ ডট এআই (kagoj.ai)’ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয়েছে দাপ্তরিক ও প্রকাশনীর কাজে ব্যবহারের জন্য নতুন বাংলা ফন্ট ‘জুলাই’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এসব প্রাযুক্তিক সেবা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দুটি প্রযুক্তি পণ্যের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি। শুরুতে বক্তব্য রাখেন ইবিএলআইসিটির প্রকল্প পরিচালক জনাব মাহবুব করিম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘কাগজ ডট এআই’ বাংলা ভাষাভিত্তিক লেখালেখি, দাপ্তরিক নথি প্রস্তুত, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ ও কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিশ্চিত করবে, যা বাংলা ভাষার ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলা ভাষার জন্য এর আগে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ এআই প্ল্যাটফর্ম চালু হয়নি।
অন্যদিকে নতুন বাংলা ফন্ট ‘জুলাই’ দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা কম্পিউটারনির্ভর বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূর করতে সহায়ক হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের একটি ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়। এরপর তিনি মঞ্চে কাগজ ডট এআই ও জুলাই ফন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ভিডিওতে উল্লিখিত বক্তব্যের আলোকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘আমাদের যে লাইব্রেরি আছে, তার বইগুলোর লেখা সার্চেবল না। আমাদের বইয়ের যে জ্ঞান আছে, তা পুনরুৎপাদন করতে ডিজিটাল ফর্মেটে নিয়ে আসতে হবে। যেমন- কোনো কিছু লিখিতভাবে দিয়ে দেওয়া হলে সেটিকে ডিজিটালি রূপান্তর করতে বেশ সময় ও শ্রমঘণ্টার অপচয় হয়। এই প্রকল্পের যা বাংলা ওসিআরের মাধ্যমে সমাধান নিয়ে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লেখালিখিতে অনেক সময় ও শ্রমঘণ্টা বাঁচাতে স্পিচ টু টেক্সট, টেক্সট টু স্পিচ যুক্ত করেছি। গত সরকারের আমলে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা ও সীমাবদ্ধতা গড়ে উঠেছিল বিজয় ফন্টের মাধ্যমে। এটাকে অতিক্রম করে অভ্র যে যাত্রা শুরু করেছিল তা গতিময় করেছে এই প্রকল্প। এখানে নিয়ে এসেছে জুলাই বাংলা ফন্ট। এই ফন্ট বাংলা ও ইংরেজি হরফের উচ্চতায় সামঞ্জস্যতা ও লাইন স্পেসিং মেনে তৈরি।’
তিনি এর সুবিধা তুলে ধরে বলেন, ‘১৮টি মোবাইল কোম্পানি যাদের ফ্যাক্টরি বাংলাদেশে আছে, তারা ৬ মাস বা এক বছরের ভেতরেই তাদের প্রোডাক্টে আমাদের ইকো-সিস্টেমকে সমন্বয় করবে। এছাড়া এই প্রকল্প বাংলাদেশে প্রচলিত প্রায় ৪০টি নৃতাত্ত্বিক ভাষার কথিত রূপের ১০ হাজার মিনিট নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প আগামীতে প্রত্যেকটি ভাষার ক্ষেত্রে , যেমন- চাকমা ভাষার ক্ষেত্রে ১০ হাজার মিনিট সংরক্ষণ করবে, যা পরবর্তী সময় একইভাবে টেক্সট টু স্পিচ ও স্পিচ টু টেক্সটে রূপান্তর করতে হবে। অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন হার্ড কপি থেকে টেক্সটে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যে শ্রমঘণ্টা অপচয় হয়, সেই শ্রমঘণ্টা বাঁচাতে অত্যন্ত সহায়ক। এপিআই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যাদের সিকিউরিটি সিস্টেম দুর্বল, তাদের সিকিউরিটি চেকিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের মুকুটে দুইটি পালক যুক্ত হলো কাগজ এআই ও জুলাই ফন্ট। বাংলাদেশে এখন ৪২টি ভাষা, মতান্তরে ৪০টি ভাষা। এমনও ভাষা রয়েছে যে ভাষায় ৬ জন মানুষ কথা বলে। এই প্রকল্প এই ভাষা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। আমরা একটা নিজস্ব ইকোসিস্টেম তৈরি করে বাংলা ভাষাকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিতে চাই।’
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন হওয়া দুইটি সেবা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।