× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নতুন আলুর প্রভাবে পুরনো আলুর দরপতন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:১০ পিএম

বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো আলুর চাহিদা কমে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো আলুর চাহিদা কমে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় দাম কমে এসেছে। নতুন আলুর সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো আলুর চাহিদা কমে গেছে। কেজিপ্রতি পুরনো আলুর দাম কমেছে ৮ টাকা। গতকাল বাজারে পুরনো আলু ১১ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আলু কিনতে আসা আহাদুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, নতুন আলু শীতের বিশেষ স্বাদ। সবজির সঙ্গে রান্না করলে বাচ্চারাও খুব পছন্দ করে। তবে একই আলুর দাম একেক জায়গায় একেক রকমÑ এটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। সকালে ১ কেজি আলু নিলাম ৭০ টাকায়, কিন্তু অন্য বাজারে একই মানের আলু ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে দেখে অবাক হয়েছি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও দেশের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

শাহীন আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, নতুন আলুর স্বাদই আলাদা। ভর্তা-ঝোলÑ সবকিছুর জন্যই শীতের নতুন আলু দরকার। এখন দাম কিছুটা কমেছে, তাই আগের মতো চিন্তা করতে হচ্ছে না। একই বাজারে সবজি কিনতে আসা কলেজশিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছিল, কিন্তু নতুন আলুর দামে অনেকদিন পর স্বস্তি পেলাম। তবে বাজারে একেক দোকানে একেক দাম।

সবজি বিক্রেতা আবদুল মতিন বলেন, নতুন আলু আসায় পুরনোর চাহিদা কমেছে। তাই দামও কম। আরেক বিক্রেতা রাজিব মিয়া বলেন, এখন বাজারে সরবরাহ ভালো। তবে পরিবহন খরচ আর পাইকারির ওপর খুচরা দাম নির্ভর করে। আমরা যতটা পারি কম দামেই ক্রেতাদের দিতে চেষ্টা করি।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে করলার। করলার ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি গাজর ৬০ থেকে কমে ৪০ টাকা, শিম ১০০ থেকে কমে ৭০-৮০, গোল বেগুন ৬০ থেকে কমে ৫০, শসা ৫০ থেকে কমে ৪০, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে কমে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, চিকন বেগুন ৪০, ধুন্দল ৪০, চায়না গাজর ১১০, ঢেঁড়স ৬০, ঝিঙা ৬০, টমেটো ৭০, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি এবং লাউ ৫০ টাকা পিস ও কাঁচকলা ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজারে স্থিতিশীল অবস্থায় সিলভার কার্প ২১০-২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, পাঙাশ ১৬০-১৯০, রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, মৃগেল ২৬০-৩৩০, কাতল ৩৪০-৪৪০, পাবদা ৩৯০-৫২০, শিং ৩৪০-৬৪০, টাকি ৪১০-৫৪০, শোল ৫৯০-৬৪০ ও কৈ ২৪০-৩৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কমেছে সোনালি মুরগি, সাদা কক ও ব্রয়লার মুরগির দাম। সোনালি কক ২৯০ থেকে কমে ২৭০ টাকা, সাদা কক ২৬০ থেকে কমে ২৫০ ও ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে কমে ১৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত এসব হিমাগারে ৪৪ হাজার ১১০ টন আলু মজুদ ছিল। চাষিরা এখনও সরকার নির্ধারিত ২২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির আশায় রয়েছেন।

রাজশাহী কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান বলেন, বাজারে যেসব নতুন আলু এসেছে, সেগুলো এখনও পরিপক্ব হয়নি। চাষিরা বেশি দামের আশায় পরিপক্ব হওয়ার আগে কিছু আলু তুলে বাজারে নিয়ে আসছেন। সরকার হিমাগার পর্যায়ে ২২ টাকা কেজি দরে আলু কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু হিমাগার থেকে ওই দামে আলু কেনার কোনো ক্রেতা নেই। সরকার আলু কেনার বিষয়ে এখনও কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। শুধু সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একজন উপদেষ্টা মৌখিকভাবে বলেছিলেন। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের নির্দেশনা জারি হয়নি।

সবজির দাম সহনীয় আছে জানিয়ে সম্প্রতি কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যতই দিন যাবে সবজির দাম কমবে। দাম যাতে এত না কমে যে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা