× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভ্যাটের টাকা ঠিকমতো কোষাগারে জমা হয় না: অর্থ উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৫০ পিএম

ভ্যাটের টাকা ঠিকমতো কোষাগারে জমা হয় না: অর্থ উপদেষ্টা

গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হলেও কিছু ব্যবসায়ী সেই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেন না বলে অভিযোগ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় জনগণ ভ্যাট দিলেও তা ঠিকমতো সরকারি কোষাগারে পৌঁছে না।’ 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের উচিত হলো ইনকাম ট্যাক্স থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা আদায় করা। মানে ইনকাম ট্যাক্স ডিপেন্ডেন্ট (নির্ভরশীল) হওয়া উচিত, ভ্যাট নির্ভরশীল না।’

রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরেকটু মডার্নাইজ করা, আরও বেশি আইটি অরিয়েন্টেড করা, পিপলস ফ্রেন্ডলি করা দরকার। না হলে কিন্তু আমরা সামনে এগোতে পারব না। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কিন্তু আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি। এটি হবে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আয়কর না বাড়ালে ঋণ করে ধার নিয়ে সামনে এগোনো যাবে না।’

ভ্যাট আদায় হলেও তা সরকারি কোষাগারে পৌঁছে না জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা জিনিস ভ্যাটে যেন কোনো কারচুপি না হয়। আপনি বা আমি যদি ভ্যাট দেই, সেটা যেন সরকারের কোষাগারে পৌঁছে। আমাদের দেশে একটা দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, ভ্যাটটা অনেক সময় পৌঁছে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) না।’

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কেনাকাটা করতে গেলে ভ্যাট থেকে নিস্তার নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি অনেককে দেখেছি, আমার আত্মীয়-স্বজনও, এই দোকানে ভ্যাট আছে, ঠিক আছে থাক, আরেক দোকানে যাই। ব্যবসায়ী ভ্যাট নেবে না, ঠিক আছে না নিলে চলবে। অতএব আমাদের মধ্যে কিন্তু মানসিকতাটা একটু চেঞ্জ করতে হবে।’

কর দিলে তার বিপরীতে সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও কিন্তু সরকারের দিক থেকে এটা এনশিওর (নিশ্চিত করা) করতে হবে যে ট্যাক্সটা নিচ্ছি মানুষের কাছে, তার বদলে যেন সব ধরনের সেবা এনশিওর করে। তবেই কিন্তু লোকজন কনভিন্সড হবে যে আমি ট্যাক্স দেব।’

ভ্যাট পদ্ধতির আধুনিকায়ন দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেড় বা দুই মাসের মধ্যে যদি সিস্টেমটাকে আরেকটু তাড়াতাড়ি ডেভেলপ করি, পরবর্তী সরকার যেন এটাকে খুব রাইট আর্নেস্ট নিতে পারে এবং বাংলাদেশের চেহারা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ‘রাজস্ব আহরণ হচ্ছে মধু আহরণের মতো। সে কারণে করদাতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাকে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো মেরে ফেললে তো হবে না। হয়রানি বা জুলুম করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি ২০১২ সালে এসে ধাক্কা খায়। নতুন আইন ১৯৯১ সালের আইনের চেয়ে সহজ হওয়ার কথা থাকলেও, বরং আরও জটিল হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন না, বরং জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করেন। ভ্যাটের মৌলিক প্রিন্সিপাল হলোÑ ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেয় না, তারা শুধু কালেক্টর। এটি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাট চালুর প্রথম দিকে ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এই ভ্যাটের মাধ্যমেই সরকারের আয় বেড়েছে। সেটা না হলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মতো অনেক ভাতা চালু করা যেত না।’

ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট দেওয়ার জন্য আলাদা সফটওয়্যার চালু করা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকারি খরচে এই সফটওয়্যার চালু করা হবে। সেখানে প্রবেশ করে ছোট ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে পারবেন। তাদের আলাদা কিছু করতে হবে না। ছোটদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় না করলে বড়দের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার ছিল ১০ শতাংশ; এখন তা ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।’ জিডিপির হিসাবের পরিবর্তনের কারণে এই অবনমন হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জিডিপির এমন কোনো অংশ থাকতে পারে, যেখানে আমরা পৌঁছতে পারছি না। এটা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। আমাদের কর আহরণ কিন্তু প্রতিবছর বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি আছে ১৫ শতাংশ হারে। এ বছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশে পৌঁছে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, ‘অনেক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মোমেনটাম তৈরি হয়েছে, সেটাকে ধরে রাখতে হবে। অটোমোটেট করা বড় সাফল্য। ভ্যাট অব্যাহতি কমেছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা