প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৪ পিএম
অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এমনকি সার্বিক বাজারও এক প্রকার অবমূল্যায়িত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ৯-এর নিচে নেমে গেছে। সাধারণত ১০-১৫ পিইকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। আর কোনো কোম্পানির পিই ১০-এর নিচে চলে গেলে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম অবমূল্যায়িত বা বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ধরা হয়। সে হিসাবে বর্তমান পুঁজিবাজার বিনিয়োগের জন্য অনেকটাই উপযুক্ত।
তবে সার্বিক পুঁজিবাজার অবমূল্যায়িত অবস্থায় থাকলেও পিই বিবেচনায় কয়েকটি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে চামড়া ও সিরামিক খাত। এই দুই খাতের পিই বর্তমানে ৬০-এর ওপরে রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজার মন্দার মধ্যে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছিল। অব্যাহত পতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ৬০ শতাংশের ওপরে লোকসানে রয়েছেন। এ কারণে তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তাদের লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে। এতে পুঁজিবাজারে এক ধনের অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। সার্বিক বাজারের থেকেও কম মূল্য আয় অনুপাত রয়েছে ৩টি খাতের। এছাড়া আর দুটি খাতের মূল্য আয় অনুপাত ১০-এর নিচে রয়েছে।
বর্তমানে সব থেকে কম পিই রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের। এ খাতের পিই রয়েছে ৩ দশমিক ২৮ পয়েন্টে। পরের অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি খাত। এ খাতের পিই ৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। ব্যাংক খাতের পিই ৬ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট। এছাড়া ওষুধ খাতের পিই ৯ দশমিক ১০ পয়েন্ট। আর আর্থিক খাতের পিই ৯ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অপরদিকে বর্তমানে সব থেকে বেশি পিই সিরামিক খাতের। এ খাতের পিই ৮১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ পিইর তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছে চামড়া খাত। এ খাতের পিই ৬০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। এছাড়া পাট খাতের ২৬ দশমিক ৬৩ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতের পিই ২১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি খাতগুলোর পিই ২০-এর নিচে।
এর মধ্যে প্রকৌশল খাতের পিই ১০ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতের ১০ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট, সেবা খাতের ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের ১২ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট, বীমা খাতের ১২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, টেলিকম খাতের ১৩ দশমিক ২৪ পয়েন্ট, ভ্রমণ খাতের ১৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট, আইটি খাতের ১৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, বিবিধ খাতের ১৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট এবং খাদ্য খাতের ১৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার পিই। সাধারণত কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই ১০-এর নিচে থাকলে সেই শেয়ার বিনিয়োগের উপযুক্ত মনে করা হয়। তবে এর সঙ্গে কোম্পানির পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোও বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা উচিত। কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের আগে ওই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে কারা আছেন, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং অতীত ইতিহাস খুব ভালো করে পর্যালোচনা করা উচিত।’