প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২০ পিএম
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রবা ফটো
দক্ষাতার অভাবে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি সঠিকভাবে পর্যালোচনা হচ্ছে না। ক্ষতি কমাতে উন্নয়ন প্রকল্প তৈরীতে ঝুঁকি পর্যালোচনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রকল্প এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যাতে ঐ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে দুর্যোগ ঝুঁকি নিরুপণ বিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করে কার্যক্রম বিভাগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম প্রধান ড. নুরুন নাহার।
প্রতিবেদনে নুরুন নাহার বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঝুঁকি পর্যালোচনা হয় না। অধিকাংশ প্রকল্প প্রস্তাবে ঝুঁকির প্রভাব মোকবেলার ক্ষেত্রে তেমন কিছু থাকে না। প্রকল্প এলাকায় ঝুঁকি কমাতে কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর জন্য কত ব্যয় হবে এসব নির্ধারণ করা হয় না। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নতুন করে কী ধরণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং নিরোসনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা উল্লেখ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে অবশ্যই প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রকল্প এলাকার ঝুঁকি নির্ণয় করতে হবে এবং প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এগুলো করতে পারলে প্রকল্পগুলো যেমন দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে তেমনি অর্থের অপচয়ও কম হবে।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, যেকোনো টেকসই উন্নয়ণের জন্য প্রাকৃতিক ঝুঁকি পর্যালোচনা ব্যবস্থা জরুরি। এক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে তারা প্রাকৃতিক প্রভাব এবং প্রশমনের ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং কী ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়ে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের দরিদ্র মানুষেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা মারা যায় তাদের অধিকাংশই দরিদ্র মানুষ, যাদের চাল চুলা কিছুই নাই। তবে যারা মোটামুটি স্বচ্ছল তাদের তেমন ক্ষতি হয় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির মূলে দারিদ্র এবং অর্থনৈতিক বিষয়। এই দুটোই মানুষের সৃষ্টি এবং এর মূলে রয়েছে অবিচার। সবার আগে এটা বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিক দুর্যোগতো বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে এর প্রভাব থেকে প্রকল্পগুলোকে রক্ষা করা জরুরি। দুর্যোগের ঝুঁকি নিরুপনের মাধ্যমে ক্ষতি কমিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। এর জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারণে প্রকল্পের ক্ষতি না হয় এবং অর্থের অপচয় না হয়।’