বললেন সম্মিলিত ব্যাংকের চেয়ারম্যান
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
সরকারি মালিকানায় ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য সুসংবাদ। ব্যাংকটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ইতোমধ্যে কারিগরি দল কাজ করছে। তবে মূল লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তিনি এসব কথা বলেন।
সেই সঙ্গে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জন্য প্রস্তুত করা প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। শিগগির ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা হবে। এর মধ্য দিয়েই দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স ইস্যু করার পর গতকাল থেকে কার্যক্রম চালু হয়।
গত রবিবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ পর্ষদ সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংক পাঁচটি হলোÑ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। ব্যাংকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আইনকানুন ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করাই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং আইনসম্মতভাবে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
ব্যাংকটির জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। গত সোমবার অর্থটি ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটের ইক্যুইটি বা মূলধন খাতে বরাদ্দ থাকা ২৪ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা থেকেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি লাভের অবস্থায় ফিরলে সেই মুনাফা সরকার পাবে। সরকারের পরিকল্পনাÑ ব্যাংকটি স্থিতিশীল হয়ে গেলে তিন বছর পর ধাপে ধাপে ২০ হাজার কোটি টাকার সরকারি শেয়ার বেসরকারি খাতে ছাড় দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে নিবন্ধিত হয়েছে। ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারের অংশ ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূলধনের পরিমাণ বিবেচনায় এটি দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছে, ডিপোজিট সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ, যা একীভূতকরণ শেষে দ্রুত পরিশোধ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২ লাখ টাকার বেশি আমানতের নিষ্পত্তির বিষয়ে বিশদ পরিকল্পনা শিগগির ঘোষণা করা হবে। নতুন ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি গতিশীল, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের রূপ নেবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এ একীভূতকরণ দেশের ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যেভাবে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক
সরকারি ইসলামী ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপিত প্রধান কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু হলেও আগামী বৃহস্পতিবার সাংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ উদ্যোগ ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানত ফেরতের প্রক্রিয়ায় গতি পাবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। এরপর বড় অঙ্কের আমানত পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।