× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচিত সরকারের পক্ষে এত সংস্কার হজম করা কঠিন হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪২ পিএম

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০৭ পিএম

নির্বাচিত সরকারের পক্ষে এত সংস্কার হজম করা কঠিন হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু বেশি উচ্চাভিলাষী সংস্কার করে ফেলেছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য হজম করা কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরোটা না হলেও সংস্কারের মূল নির্যাসটুকু নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে, কারণ জনগণের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই তাদের কাজ করতে হবে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে অনেক বড় বড় সংস্কার হচ্ছে। কখনও কখনও আমরাও এর পুরো প্রভাব বুঝে উঠতে পারছি না। তবে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কমিটির সুপারিশ ছিল এবং মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা বহু প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিচার বিভাগকে স্বাধীন বা পৃথকীকরণের যে অধ্যাদেশ হয়েছে তাতে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু দেওয়া হয়েছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে বিষয়টি নতুন সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ, এখন ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতিদিনের সিদ্ধান্তÑ জামিন, রিমান্ড বা দণ্ড কোনোটিই আর আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। নতুন সরকার অবশ্যই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করবে।’

একনেক সভায় ১৫ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৯ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা আর সংস্থার ৩৭৯ কোটি টাকা। পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদন দেওয়া ১৫টি প্রকল্প একনেক সভায় অবহিত করা হয়েছে। অত্যধিক ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরায় স্বাস্থ্যের ১৩ হাজার কোটি টাকার সবচেয়ে বড় হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়নি। একনেক সভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সচিবালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্পও। 

প্রকল্প বাদ দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা বলনে, ‘অনেক প্রকল্পে ত্রুটি থাকে, আবার অনেক সময় পত্রিকার রিপোর্টও পুরোপুরি ঠিক হয় না। আমরা সংবেদনশীল বলে আবার যাচাই করি। স্বাস্থ্যের প্রকল্পে কম্পিউটারের দাম বেশি দেখানো হয়েছে, অভিযোগে তিনি ব্যাখ্যা দেন, আপনারা শুধু কম্পিউটারের দামের হিসাব দেখেছেন, কিন্তু অটোমেশন খরচ ধরেননি। সব মিলিয়ে কস্টিংটা ভিন্ন।’

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘সময় নেই, আর করলে জটিলতা বাড়বে, সচিবালয়ে মিছিল হবে। বিটিভি আলাদাভাবে সংস্কার করা যায়, কারণ তারা কখনও মূল সার্ভিস কাঠামোর মধ্যে ছিল না। কিন্তু বেতার ইনফরমেশন সার্ভিসের লোকজন, ওদের সঙ্গে কিছু করতে গেলে মহা হুলস্থুল হবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ বেতারে ৫০০-এর মতো উদ্বৃত্ত কর্মী আছে।

বিবিএস সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, ‘নীতিমালা সহজ, সেটা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। বিবিএস স্বাধীনভাবে সব প্রকাশ করতে পারবে। অধ্যাদেশ করতে সমস্যা নেই, কিন্তু সমস্যা হলো- আমরা এতগুলো অধ্যাদেশ করে যাচ্ছি যে পরবর্তী সংসদে এগুলো সব আবার পর্যালোচনা হবে। যেটা তাদের ভালো লাগবে রাখবে, যেটা লাগবে না, বাতিল করবে।’

সরকারি ক্রয় নীতিমালা (পিপিআর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এটা। এখন এটা বইয়ের মতো বাজারে আছে, ডিজিটালাইজড সহজে বদলানো যাবে না। আশা করি, এটি আইন হিসেবে টিকে যাবে।’

বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক সংস্কার নিয়েও তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার যেই অধ্যাদেশ হয়েছে, তা নতুন সরকার আবার দেখবে। কারণ এতে ম্যাজিস্ট্রেটরা কাকে বেইল দেবে বা অ্যারেস্ট করবে- এসব আর আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। কিছু ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।’

তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা হওয়া নিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নতুন প্রকল্প হোক বা চলমান প্রকল্পÑ সব চলবে। আমি তো প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই অর্থ ও পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলাম, ১৯৯৬ সালে। তখনও প্রশ্ন উঠেছিল নতুন প্রকল্প নেওয়া যাবে কি না। কিন্তু আমরা তখনও একনেক করেছি, উন্নয়ন প্রকল্প তো চলবেই। শুধু খেয়াল রাখতে হয় কোনো কনস্টিটিউয়েন্সি-ভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার প্রকল্প যেন না আসে।’

তিনি জানান, সাধারণ সময়ে রাজনৈতিক চাপ বেশি থাকে, কে কোন এলাকায় প্রকল্প চাইছে। কিন্তু এবার তা হয়নি। তবে নির্বাচন যত কাছাকাছি আসছে, অনুরোধ বাড়ছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, এই কনস্টিটিউয়েন্সি বেইজড প্রকল্পগুলো আমরা দেব না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা