প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:২০ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:২২ পিএম
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। প্রতি লিটার জ্বালানিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে। নতুন দামের ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্পসহ সার্বিক খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও আরও বেড়ে যাবে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এটি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ থেকে বাড়িয়ে ১০৪ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৮ থেকে ১২০ টাকা, অকটেনের দাম ১২২ থেকে ১২৪ টাকা এবং কেরোসিন ১১৪ থেকে বাড়িয়ে ১১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে সরকার। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়, ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় অকটেন ও পেট্রলকে বিলাসদ্রব্য হিসেবে ধরে এগুলোর দাম সবসময় ডিজেলের চেয়ে বেশি রাখা হয়।
উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাবও বর্তমানে বিইআরসির কাছে রয়েছে। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যার চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে। ডিজেল সাধারণত কৃষি সেচে, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার করা হয়।
জ্বালানির দামের এই বৃদ্ধি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহনীয় মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও বাজারদর আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে।
অর্থনীতির ধীরগতি, কর্মসংস্থান সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে জ্বালানির নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।