× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাংক ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশই খেলাপি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৫ পিএম

ব্যাংক ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশই খেলাপি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন হিসাব বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এতে দেশের ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবং আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কার ছাড়া সামনের দিনে ভার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগে যেসব ঋণ পরিশোধ না হওয়া সত্ত্বেও কাগজে ‘নিয়মিত’ হিসেবে দেখানো হতো, সেগুলো এখন মন্দ ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রভাব ও সুবিধার মাধ্যমে বিতরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগুলো একে একে প্রকাশ পাচ্ছে, আর মন্দ ঋণের পরিমাণও বাড়ছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ বিবরণী থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, নিয়মনীতি স‌ঠিক প‌রিপালনের কারণে এখন তা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ কোটি, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি সম্পর্কে এখন আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতাও সামনে এনেছে- যেখানে বিপুল অঙ্কের অনাদায়ি ঋণ বছরের পর বছর ধরে জমে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়ম-কানুন কঠোর হওয়া, নজরদারি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের লুকানো খেলাপি ঋণ প্রকাশ পাওয়ায় সম্প্রতি খেলাপি ঋণের অঙ্ক দ্রুত বেড়েছে। বাস্তব চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় খেলাপির হার বাড়লেও এতে খাতটি সুশাসনের দিকে ফিরবে- এমনটিই আশা করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পতিত সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ বিতরণে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের মতো বড় ঋণগ্রহীতারা গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাপক হারে খেলাপিতে পরিণত হন। এতে পুরো খাতে খেলাপি ঋণ নজিরবিহীনভাবে বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তোফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, এখন প্রায় ৩৬ শতাংশ ঋণ নন-পারফর্মিং হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। এর যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংককে বেশি প্রভিশন রাখতে হয়, ফলে তাদের আয় কমে যায় এবং মূলধনভিত্তি দুর্বল হয়। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় পড়েন এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো লেনদেন ফি বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, দেশকে অবশ্যই এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবে। ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঋণ শ্রেণিকরণ করায় খেলাপির হার কিছুটা বেশি দেখাচ্ছে।

খেলাপির বিষয়ে আইএমএফের শর্ত

ডলার সংকটে পড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের ঋণের দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের তিনটি কিস্তি পেয়েছে। বাকি দুটি কিস্তি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে দেবে সংস্থাটি। এর মধ্যে অন্যতম ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের ৫০ শতাংশের মতো খেলাপি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা