প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা জোরদার করতে ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রণীত এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০’ বাতিল হয়ে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।
নতুন আইন অনুযায়ী, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে থাকা আমানত নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে তা ফেরত নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় পৃথক ‘আমানত সুরক্ষা বিভাগ’ গঠন করা হবে। বিভাগটি প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সুরক্ষিত আমানত পরিশোধ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
অধ্যাদেশে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য দুটি পৃথক আমানত সুরক্ষা তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রিমিয়াম, জরিমানা, বিনিয়োগ আয় ও অন্যান্য অনুমোদিত উৎস থেকে এই তহবিল পরিচালিত হবে। তহবিলের প্রশাসনিক দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পালন করবে, যা ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে কাজ করবে।
নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিকে নির্ধারিত হারে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। সব ব্যাংক কোম্পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হলেও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এ সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত হবে। ঝুঁকিভিত্তিক প্রিমিয়াম ত্রৈমাসিকভিত্তিক আদায়ের বিধানও রাখা হয়েছে।
তবে সরকারি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির আমানত এই সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকবে। সাধারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত সুরক্ষাযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির অবসায়ন বা রেজুলেশনের ক্ষেত্রে আমানত সুরক্ষা বিভাগ সরাসরি সুরক্ষিত অর্থ ফেরত দেবে। প্রয়োজনে রেজুলেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্রিজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা বা তৃতীয় পক্ষকে সম্পদ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও কার্যকর করা যাবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশি-বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই, তথ্য বিনিময় ও কারিগরি সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে আর্থিক খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং আমানতকারীর আস্থা বাড়বে।
এদিকে সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতিসহায়তা প্রদান করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে গত ১৬ সেপ্টেম্বরের এক সার্কুলারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
ওই সার্কুলারে বলা হয়, দেশে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও আর্থিক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে নতুন একটি বিশেষ ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা চালু করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের অনেক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা নানা সমস্যায় বিপাকে পড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবার ঘাটতি, ব্যাংকিং সেবায় নানা ধরনের বাধাÑ এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা সঠিকভাবে চালাতে পারেনি। ফলে তারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে শুধু ঋণগ্রহীতার ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং ব্যাংকের ঋণ আদায় ও নতুন ঋণ বিতরণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করে আবারও ব্যবসা সচল ও লাভজনক করার জন্য এ বিশেষ নীতিমালা চালু করা হয়েছে।