কৃষি ঋণ বিতরণে অবহেলার শাস্তি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:২৮ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:১৩ পিএম
প্রবা ফটো
কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিতরণ করতে না পারা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের ওপর ব্যাংকগুলো মাত্র ২ শতাংশ হারে সুদ পাবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংকসমূহের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ড (বিবিএডিসিএফ) নামে একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব ব্যাংক তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবে তারা ওই ফান্ডে অনর্জিত অংশের সমপরিমাণ টাকা জামা দেবে। জমাকৃত অর্থের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিবিএডিসিএফে জমা হওয়া অর্থ ব্যাংকসমূহের চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ করা হবে। বরাদ্দ প্রাপ্তির ১৮ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে ২ শতাংশ হারে সুদসহ আসল পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা’ অনুযায়ী ৮ শতাংশ সুদ হারে কেবলমাত্র নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে (ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী সংস্থার লিংকেজ ব্যতীত) কৃষি ও পল্লী ঋণ হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করবে ব্যাংক। ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি কমাতে বিবিএডিসিএফ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের ১ শতাংশ সুদের সমপরিমাণ অর্থ জমা করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ গঠন করতে হবে। বিবিএডিসিএফ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের ১ শতাংশ সুদের সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের স্থিতিপত্রের কমন ইকুইটি টায়ার-১ মূলধনের উপাদান ‘জেনারেল রিজার্ভ’ হিসাবের একটি খাত হিসেবে প্রদর্শনপূর্বক যথাযথভাবে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিবিএডিসিএফ থেকে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত সুদের অবশিষ্ট ৪ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আয় খাতে স্থানান্তর করতে পারবে। এই নির্দেশনা চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর হতে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।