× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিল্প খাতে ঋণের চাহিদা ২৩ শতাংশ বেড়েছে

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৩৬ পিএম

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:২৮ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঋণের চাহিদা বেড়েছে শিল্প খাতে। ফলে বাড়ছে বিনিয়োগ, তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের ঋণ বেড়েছে ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে আদায়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোভিড মহামারির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। এর ফলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শিল্প খাত। কোভিড শুরুর পর ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। সে তুলনায় চলতি বছর পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তাই অন্যান্য খাতের মতো শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হওয়ায় ঋণ আদায়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৫৯৬ কোটি ৮২ টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। জুন শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪ কোটি ২ লাখ টাকা।

এদিকে শিল্পঋণ বিতরণের বিপরীতে আদায়ের হারের অবস্থাও ভালো। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্প খাতে ঋণ আদায় হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা; যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে শিল্প খাতে ঋণ আদায় বেড়েছে ১৮ হাজার ৪৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর তিন মাসের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণ করা শিল্পঋণের মধ্যে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এ অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ হাজার ৫৬০ কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বকেয়া ছিল ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। শিল্প খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণের অঙ্ক ৯৫ হাজার ৯৪৬ কোটি ৪৭ লাখ, যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ৮৪ হাজার ৮৩৭ কোটি ৫২ লাখ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণ ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা বেড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ১৪ হাজার ৮৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে মেয়াদি ঋণ বিতরণের অঙ্ক যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১০, ৯ দশমিক ৯১ ও ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মূলধন ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৯১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তবে এক বছর পর ২২ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৭০৩ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পে চলতি মূলধন ঋণ বিতরণের অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ২৬ দশমিক ২৫ ও ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ । তবে বৃদ্ধি পেলেও মাঝারি শিল্পে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ২৮ ও ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাঝারি শিল্পে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, ‘ঋণ বাড়া খারাপ নয়। ঋণ বাড়লে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। জনগণের আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়। তবে ঋণ কতটা আদায় হচ্ছে, এটাই প্রধান বিষয়। ঋণ আদায় না হলে এ খাতের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক যুগ ধরে এ খাতে যাচাই-বাছাই ছাড়া অনেক ঋণ দেওয়া হয়েছে। যা এখনও আদায় সম্ভব হয়নি। এর ফলে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তাই যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথ খাতে ঋণ বিতরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মত এই জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারের।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা