গ্লোবাল ফাইন্যান্সের মূল্যায়ন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৫৪ পিএম
আন্তর্জাতিক আর্থিক সাময়িকী গ্লোবাল ফাইন্যান্সের ২০২৫ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পেয়েছেন ‘সি প্লাস’ গ্রেড। অর্থাৎ, তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পারফরম্যান্সকে সংস্থাটি ‘মিশ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের সাবেক গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ২০২৩ সালে পেয়েছিলেন ‘ডি’ গ্রেড। ফলে, মনসুরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি গ্লোবাল ফাইন্যান্সের প্রকাশিত ‘সেন্ট্রাল ব্যাংকার রিপোর্ট কার্ড ২০২৫’- এ বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবৃদ্ধি অর্জন, মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা- এই চার সূচকে গড়পড়তা ফল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার গভর্নর নন্দলাল উইরাসিংহে পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড, আর ভিয়েতনামের গভর্নর নুয়েন থি হং পেয়েছেন সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি দায়িত্ব নেন এমন এক সময়ে, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতিকে টালমাটাল করে রেখেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রিপো রেট ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেন। এতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে, যা গত দশকের গড় ৬ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে।
আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সহায়তায় তিন বছরের ব্যাংকখাত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে খেলাপি ঋণ কমানো, দেউলিয়া আইন হালনাগাদ করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি ধীর।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহসান এইচ মনসুরের নীতি দিকনির্দেশনা যুক্তিসংগত হলেও বাস্তবায়নে গতি কম; ফলে জনগণের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘সি প্লাস’ গ্রেড মানে হচ্ছে নীতিগত দিক সঠিক পথে থাকলেও বাস্তব পরিবর্তনের ফল এখনো দৃশ্যমান নয়। মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ অনিয়ম ও ডলারবাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছে।