× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আকার কমছে বাজেটের

আবু কাওসার

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৩১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় না হওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের পরই বাজেটের আকার কমে আসছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার দেওয়া হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাটছাঁট করে মূল বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানো হতে পারে। ফলে সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়াবে ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। গতকাল সোমবার বিকালে সচিবালয়ে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এমনই আভাস দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

বৈঠকসূত্র জানাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের ব্যয় বাড়বে। ইতোমধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি মেটাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। বিদ্যুৎ-সারেও ভর্তুকি বেড়েছে। রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-কমিশন বাস্তবায়নের চাপ। এসব কারণে অ-উন্নয়ন বা পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার সহনীয় পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় ও দিক বিবেচনায় রেখে বৈঠকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তবভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

অনলাইনে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এফসিএ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার-সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল অর্থনীতি খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক। এই কাউন্সিল প্রতি তিন মাস পর দেশের অর্থনীতি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে।

ডিসেম্বরের পর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির প্রত্যাশা

বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় রাজস্ব আদায় নিয়ে। বলা হয়, সরকারি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। যেভাবেই হোক রাজস্ব আদায় বাড়াতেই হবে। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অর্থ উপদেষ্টা। চেয়ারম্যান জানান, গত দুই মাসে রাজস্ব আদায় কমলেও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। সাধারণত অর্থবছরের প্রথমদিকে আদায়ের গতি শ্লথ থাকে। এরপর বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের পর আদায় আরও বাড়বে।

কাউন্সিলের বৈঠকে চলতি অর্থবছরের হালনাগাদ বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা হয়। কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকের পর সম্পদ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেট নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সভায় আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট উইং থেকে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী এপ্রিলে আরেকটি বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক কঠিন বাস্তবতায় গত ২ জুন চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি একটি বাস্তবায়নযোগ্য ছোট বাজেট দেন। যার অর্ধেক বাস্তবায়ন করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাকি অর্ধেক করবে নির্বাচিত সরকার। তবে এরই মধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। 

জিডিপি কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ

চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘোষণার সময় মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রাক্কলন করা হয় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু সরকার এখন মনে করছে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। কারণ দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির এখনও উন্নতি ঘটেনি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার তা নেই। বিনিয়োগ না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হবে না। এসব বিষয় বিবেচনা করে বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জিডিপি কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক তাদের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে হবে। অর্থনৈতিক মন্দাকে এর কারণ হিসেবে দায়ী করেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এই দুই বহুজাতিক সংস্থা। 

মূল্যস্ফীতি এখনও উদ্বেগের বিষয় 

মূল্যস্ফীতি আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও সরকার মনে করছে, এখনও এটি উদ্বেগের বিষয়। বাজেট ঘোষণার সময় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরে এটি সংশোধন করে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। 

উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। 

উন্নয়ন কাজের গতি বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ধীরগতি বাস্তবায়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বলা হয়, চলতি অর্থবছরের তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের গতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। অনেক মেগা প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। এসব কারণে ব্যয় কমেছে। তবে নির্বাচিত সরকার আসার পর এডিপির গতি বাড়বে বলে মনে করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ তিন হাজার কোটি টাকা 

জাতীয় নির্বাচনে খরচ মেটানোর জন্য বাজেটে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংযুক্ত এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাড়তি বরাদ্দের জন্য নির্বাচন কমিশন এখনও আমাদের কাছে চায়নি। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা