প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় থাকছে রিজার্ভ।
রবিবার (৯ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক ছুটি থাকায় আজ সোমবার আকুর বিল পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আকুর দেনা এবার ১৬০ কোটি (১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন) ডলার। এই দেনা মেটানোর পরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার থাকবে। গ্রস বা মোট রিজার্ভ থাকবে ৩০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
গত বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এবার আকুর বিল হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের এই বিল আজ পরিশোধ করা হবে। রিজার্ভ থেকে তা সমন্বয়ের পর বিপিএম-৬ হিসাবে ২৬ বিলিয়ন ডলারে নামবে। গ্রস হিসাবে দাঁড়াবে সাড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
দুই মাস আগে ৭ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ থেকে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১৫০ কোটি (১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩০ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার। ওই সময় আকুর দেনা শোধের আগে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
গত দুই মাসে সেই রিজার্ভ বেশ খানিকটা বেড়েছে। সে কারণে জুলাই-আগস্টের মেয়াদের চেয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে আকুর বেশি বিল শোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আকুর দেনা পরিশোধের পরও এখন আমাদের রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় থাকছে; এটা একটা স্বস্তির জায়গা। আগ দেখা যেত আকুর বিল শোধের পর এই সূচক উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে আসত। এখন রিজার্ভ নিয়ে আর কোনো চিন্তা নেই; উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই।’
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রিজার্ভ নিয়ে বেশ কিছুদিন উদ্বেগ ছিল। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বাড়ায় সেই উদ্বেগ কেটে গেছে। রপ্তনি আয় ধাক্কা খেলেও রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যংক বাজার থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। সে কারণে রিজার্ভ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ আমি দেখছি না।’
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জোয়ার বইছে। এ মাসের প্রথম আট দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৭৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের চার মাস আট দিনে (১ জুলাই থেকে ৮ নভেম্বর) ১ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ (১০ দশমিক ৯০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি।