× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ছে

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩২ পিএম

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ছে

ইতিবাচক ধারায় ফিরছে দেশের অর্থনীতি। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি। তিন বছর পর ইতিবাচক ধারায় ফিরল মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা কলকারখানা স্থাপনে আগের চেয়ে অধিক পরিমাণ যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খুলছেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানার সম্প্রসারণ জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলোতে ৪৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের এলসি খুলেছেন।

এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কারখানা সম্প্রসারণ হোক অথবা নতুন কারখানা স্থাপন হোক, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বৃদ্ধির এটাই হলো ইঙ্গিত। ট্রাম্প শুল্কের কারণে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে চীনের অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। সে কারণে তারা মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে উদ্যোক্তারা সাধারণত নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানার সম্প্রসারণ করে থাকেন। অর্থাৎ শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য সব মিলিয়ে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ৬৭ লাখ (প্রায় ১৮ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ৪৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে; এই অঙ্ক গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, টানা তিন অর্থবছর ধরে দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। মহামারি করোনাভাইরাস-সৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার বছর, ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানির জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এলসি খোলা হয়। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয় দেশে। এরপর থেকে দেশের সামগ্রিক আমদানি কমার পাশাপাশি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমেছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে এক ধাক্কায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা কমে ৫৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তি কমে ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমে যথাক্রমেÑ ১০ দশমিক ৯৭ ও ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলোতে ১৭৪ কোটি ৫৪ লাখ (১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলেন, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরে এলসি নিম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ৫১ লাখ (১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন) ডলার; কমেছিল প্রায় একই, ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটি (২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন) ডলার; নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৬৬ কোটি ১৬ লাখ (২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন) ডলার।

গবেষণা ও নীতিসহায়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এলসি খোলা বৃদ্ধি পাওয়া মানে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানো। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সার্বিক চিত্র উন্নতি হয়েছে। অবস্থা এখন স্বস্তির দিকে যাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন। এ কারণেই চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হয়েছে।’

২০২৫-২৬ অর্থবছরেও শুরু হয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়। তবে দ্বিতীয় মাস আগস্টেই প্রবৃদ্ধিতে ফেরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ২৬ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়ে একই সময়ের চেয়ে ২৬ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বর শেষে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সেই প্রবৃদ্ধি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই তিন মাসে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানার সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলোতে ৪৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের এলসি খুলেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘টানা দুই মাস রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তবে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শুল্কারোপ করায় চীনের অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। সেই অর্ডার বা কার্যাদেশ ধরতে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা করছেন। সে কারণে তারা মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বাড়ছে, এটাই তার প্রধান কারণ বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হলে নতুন সরকার আসবে। তখন দেশে অস্থিরতা কমবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা