প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫৭ পিএম
একীভূত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর পরদিনই শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল শরিয়া ভিত্তিক পাঁচ বেসরকারি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এসব ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়।
শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করায় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একাংশ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচিও করেছেন। তারা এ সময় অর্থ উপদেষ্টা, গভর্নর ও বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।
লেনদেন স্থগিত করার কারণ হিসেবে ডিএসই থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ১৫ অনুসারে ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডিএসই জানায়, কোম্পানিগুলো জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকগুলো এখন থেকে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে।
গত বুধবার এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তাদের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পরপরই ব্যাংকগুলোয় প্রশাসকও নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ উপলক্ষে গত বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করেন। তিনি এও জানান, ব্যাংকগুলোর বর্তমান যে আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে শেয়ারধারীরা অর্থ পাবেন না।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার আপাতত কোনো সুযোগ নেই। কারণ ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স (বিআরও), ২০২৫ অনুযায়ী, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর শেয়ার নতুন করে ইস্যু করা হবে এবং আগের শেয়ারহোল্ডারদের কোনো শেয়ার নতুন ব্যাংকে থাকবে না। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সংগতি রেখে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এফসিডিওর কারিগরি সহায়তা ও মতামতসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও, ২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে। এ অধ্যাদেশে রেজল্যুশনে আওতাধীন ব্যাংকসমূহে আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারসহ বিবিধ পাওনাদারের অধিকারের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের পরিমাণ
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে এক্সিম ব্যাংকের মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৯ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ শতাংশ, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে মাত্র ৩২ শতাংশ শেয়ার। ব্যাংকটির ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪টি। সবশেষ শেয়ারটি ৩ টাকায় হাতবদল হয়েছিল আগের দিন।
সবশেষ অক্টোবর মাসে ১ হাজার ২০৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১২০ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৯টি। মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ রয়েছে। আগের দিন শেয়ারটি ১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৮৭ কোটি ৪৩ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৮টি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হচ্ছে ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগকারী নেই। সবশেষ শেয়ারটি ১ টাকা ৭৭ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল আগের দিন।
১ হাজার ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৮টি। গত অক্টোবর শেষে মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর ১ হাজার ১৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি। আগের দিন শেয়ারটি ১ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়।
মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ৬৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।