প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৫ পিএম
উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
দেশের পরিবহন, সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করতে সরকার ‘জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে নীতিমালাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, একটা নীতিমালা থাকলে সরকার তার কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারে, একটা নির্দেশনা পায়। আজকের নীতিমালাটি লজিস্টিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক-নির্দেশনা।
তিনি আরও বলেন, এই নীতিমালাটি বাস্তবায়নের ফলে সরকারি-বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রেস সচিব জানান, বর্তমানে দেশের প্রধান নৌবন্দর চট্টগ্রামে পণ্য রপ্তানিতে কখনো কখনো ১১ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। নতুন লজিস্টিকস নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে, ফলে রপ্তানি কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে প্রণীত নীতিটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পুনর্মূল্যায়নের পর জনপ্রশাসন সচিব এহসানুল হকের নেতৃত্বে নতুনভাবে নীতিমালাটি খসড়া করা হয়।
নীতিমালার মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে—২০৫০ সালের মধ্যে রেলওয়ে ও নৌপরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে পুরো খাতকে একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা যায়। এই ইকোসিস্টেমে শুল্ক, ফি ও কাগজপত্রসহ সব কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো—আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে বর্তমানে যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে, তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বাড়বে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়া ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নীতিটি সহায়তা করবে।