× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধারাবাহিকভাবে কমছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম

ধারাবাহিকভাবে কমছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি

কমতে কমতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমেছে। এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন। দ্বিতীয় মাস আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ গত বছরের একই সময়ে চেয়ে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছিল।

অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিনিয়োগ থমকে যাওয়া। আর বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে না। ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছিল। এর আগে দেশে কখনোই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নামেনি। এমনকি করোনা মহামারির মধ্যেও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশের ওপরে ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ বিতরণের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের মাস আগস্টে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। তার আগের মাস গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মে মাসে এই প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। এপ্রিলে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাস শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। এ হিসাবেই সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি খাত। আর এ খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। প্রায় এক বছর ধরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কম থাকার কোনো তথ্য বাংলাদেশে নেই। অথচ বেশি দিন আগে নয়Ñ তিন বছর আগে ২০২২ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বর্তমানের চেয়ে দিগুণেরও বেশি ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ উঠেছিল। এর অর্থ হচ্ছে ব্যক্তি খাত এখন ব্যাংকঋণ নিচ্ছে কম, বিনিয়োগও করছে কম। অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে।

গত বছরের আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বেনামি-জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কমে আসায় এবং দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত ও পর্ষদে পরিবর্তন হয়েছে এমন ১১টি ব্যাংকের নতুন ঋণ প্রদান বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই ব্যাংকগুলো এখন আমানতকারীদের টাকার চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে আসায় অনেক ব্যাংক সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এতে ঋণের চেয়ে বেশি মুনাফা মিলছে। কারণ ঋণ দিলে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থাকে আর বিল ও বন্ডে মুনাফা নিশ্চিত হয়।

জানা গেছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের নিম্নমুখী ধারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২ সালের নভেম্বরে শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তা আরও কমেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, কমতে কমতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। তার আগে মে মাসে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। এপ্রিলে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

২০২৫ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। তার আগে নভেম্বরে ৭ দশমিক ৬৬, অক্টোবরে ৮ দশমিক ৩০, সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ২০, আগস্টে ৯ দশমিক ৮৬, জুলাইয়ে ১০ দশমিক ১৩ এবং জুনে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে সঙ্কোচনমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণ করছে। ফলে সব ধরনের ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতার পটপরিবর্তনেরও একটা প্রভাব রয়েছে।’ 

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সংঘাত-নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী কেউই ঠিকমতো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন না। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেই চলেছে। এর অংশ হিসেবে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তাতে ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীÑ কেউই ঠিকমতো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন না। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেই চলেছে। এর অংশ হিসেবে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সব মিলিয়েই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা