প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ২২:০৭ পিএম
দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক (প্রস্তাবিত), অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করে। মূলত আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেই হিসেবে গত রবিবার ছিল আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত দিন।
খাত বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংক হচ্ছে এমন এক প্রতিষ্ঠান, যা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব প্লাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহককে ব্যাংকিং সুবিধা দেয়। অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, ঋণ গ্রহণ বা সঞ্চয়Ñ সবকিছু করা যায় অনলাইনে, যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের ১৪ জুন ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা করে। নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস পরিচালিত হবে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশনের অধীনে।
ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার জন্য প্রধান কার্যালয় থাকবে এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এটি হবে স্থাপনাবিহীন। অর্থাৎ এই ব্যাংক কোনো ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) সেবা দেবে না। ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব কোনো শাখা বা উপশাখা, এটিএম, সিডিএম অথবা সিআরএমও থাকবে না। সব সেবাই হবে অ্যাপ-নির্ভর, মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে।
ডিজিটাল ব্যাংকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সেবা দেওয়া হবে। গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড ও অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে লেনদেনের জন্য কোনো প্লাস্টিক কার্ড দেওয়া হবে না। গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম ও এজেন্ট সেবা ব্যবহার করতে পারবে। ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না। বড় ও মাঝারি শিল্পে কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না, শুধু ছোট ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবনা (আইপিও) আনতে হবে। আইপিওর পরিমাণ অবশ্যই উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক বিনিয়োগের ন্যূনতম সমান হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাতে কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই ডিজিটাল ব্যাংক চালু করা হবে। সব সেবা অ্যাপনির্ভরভাবে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এদিকে দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার এখনও প্রবল। প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ নগদে লেনদেন করেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বর্তমান সময়ের ব্যয় মূলত টাকা ছাপানো, পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চলে গেছে। পুরোপুরি ক্যাশলেস সমাজে যাওয়া এখনও কঠিন হলেও ‘লেস ক্যাশ’ অর্থনীতি গড়ে তুললে এ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১০ আগস্ট বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক অনুষ্ঠানে জানান, টাকা ছাপানো, সংরক্ষণ, সারা দেশে পরিবহন ও বণ্টনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। রাষ্ট্রের এ বিপুল খরচ বাঁচাতে হলে নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে হবে। ক্যাশলেস বা নগদ অর্থ ছাড়াই লেনদেন বাড়াতে হবে।