× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিম্নমানের কীটনাশকে সর্বস্বান্ত পেঁয়াজ চাষিরা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১২ এএম

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৩ এএম

নিম্নমানের কীটনাশকে সর্বস্বান্ত পেঁয়াজ চাষিরা

বাংলাদেশের কৃষি খাতে ব্যবহৃত বিদেশি কীটনাশক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বহুজাতিক জার্মান কোম্পানি বায়ার ক্রপ সায়েন্সের ‘লুনা’ নামের কীটনাশক (পেঁয়াজে ব্যবহারযোগ্য) পরীক্ষায় ঘোষিত লেবেলের সঙ্গে অমিল পাওয়া গেছে। গায়ে লেখা আছে ফ্লুপাইরাম-২৫ শতাংশ ও ট্রিফ্লক্সিস্ট্রবিন-২৫ শতাংশ। অথচ বাস্তব পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র ২১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অথচ সরকারের কাছে তাদের ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পরিমাণই উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ লেবেল ও বাস্তব উপাদানের মধ্যে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোম্পানিটি সরকার ও কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার পরও কৃষক বাধ্য হয়ে অতি উচ্চমূল্যের নিম্নমানের এই কীটনাশক কিনছেন। আর আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন প্রান্তিক পেঁয়াজ চাষিরা। একই সঙ্গে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য, মাটি ও মৎস্যসম্পদও হুমকির মুখে পড়ছে। প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

সূত্র বলছে, লুনা কীটনাশকের ১০০ গ্রাম বোতলের দাম বাংলাদেশে ১ হাজার ৩১০ টাকা। কিন্তু গুগলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য উল্লেখ আছে প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও একই পরিমাণ পণ্যের দাম মাত্র ৫৭০ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০০ টাকা)। ভারত সরকার কৃষি-রসায়নের দাম নিয়ন্ত্রণ করলেও বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরাই দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে অতি উচ্চমূল্যে এসব পণ্য কিনছেন।

এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কীটনাশকের মতো কৃষিজ ইনপুটের দাম যদি সম্পূর্ণভাবে বহুজাতিক কোম্পানির ইচ্ছাধীন থাকে, তবে কৃষক কখনোই লাভবান হতে পারবেন না। পণ্যের প্রকৃত আমদানি মূল্য, শুল্ক আর বাজারদরের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থেকে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার হচ্ছে।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা পরিষদে এক আলোচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাওর অঞ্চল দেশের বোরো ধানের অর্ধেক উৎপাদন করে। কিন্তু অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের পথে। কৃষকরা তাৎক্ষণিক ফসল বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ফসল, মাছ, মাটি সবই দূষিত হচ্ছে।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৫০ বছরে ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন। এতে লেড, ক্যাডসিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো হেভি মেটাল ফসল ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের কোথাও এ ধরনের কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহারের অনুমতি নেই। বাংলাদেশে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা উচিত।

শুল্কনীতি বৈষম্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্প

দেশের শিল্পোদ্যোগীরা বলছেন, দেশীয়ভাবে কীটনাশক উৎপাদনের কাঁচামালে ৩৫-৫৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অথচ বিদেশি কোম্পানির আমদানিকৃত নিম্নমানের কীটনাশকে শুল্ক মাত্র ৫ শতাংশ। এতে স্থানীয় শিল্প টিকতে পারছে না আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সহজেই বাংলাদেশি কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে মুনাফা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। এফবিসিসিআই একাধিকবার সরকারের কাছে এই বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে।

কৃষকরাই চূড়ান্ত ভুক্তভোগী

বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। তাই কৃষক পোকামাকড় দমনে লুনার মতো পণ্যের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এক কৃষকের অভিযোগ, আমরা বাধ্য হয়ে কোম্পানির দেওয়া দামেই কীটনাশক কিনছি। সরকারের কেউই এ বিষয়ে খোঁজ নেন না।

সরকারের ভূমিকা দায়সারা 

লুনার মতো কীটনাশকের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কৃষি মন্ত্রণালয়, খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কীটনাশক শাখা ও ট্যারিফ কমিশন সব পক্ষই দায় এড়িয়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে আসলে কে নির্ধারণ করছে কীটনাশকের মূল্য?

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বায়ারের ‘লুনা’ কীটনাশক নিয়ে চিত্র উঠে এসেছে, তা দেশের কৃষিবাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অক্ষমতার প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কৃষক, ভোক্তা ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অবিলম্বে কীটনাশকের দাম ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন। নইলে বিদেশি কোম্পানির হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে বাংলাদেশের কৃষি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করবে। 

এ বিষয়ে জার্মান কোম্পানি বায়ার ক্রপ সায়েন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের এরিয়া কর্মকর্তা সুব্রত কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা