প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:২৩ পিএম
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে পরপর চারটি বৈঠক করেছে বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটি।
কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
সভাগুলোতে এসএমই খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার (১ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এ পর্যন্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক অর্ডার থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০ শতাংশ ব্যাংকে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের উদ্যোগ এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে তিন হাজার মার্কিন ডলারের পৃথক বৈদেশিক মুদ্রা কোটা বরাদ্দের প্রস্তাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকে ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো—এসএমই খাতের জন্য নতুন আর্থিক পণ্য নকশা, বিদ্যমান নীতিমালার কার্যকারিতা মূল্যায়ন, বাণিজ্য লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সুদের হার পুনর্বিবেচনা।
এর আগে ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসএমই খাতের নানা চ্যালেঞ্জ—যেমন অর্থপ্রদানে বিলম্ব, শুল্ক, লাইসেন্স ও ঋণ—বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া অনলাইন বিক্রির অর্থ দ্রুত উদ্যোক্তাদের হিসাবে জমা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল মানিব্যাগ সুবিধা চালু, নমুনা ছাড়প্রক্রিয়া সহজ করা, রপ্তানি নীতিমালায় বি-টু-বি ও বি-টু-সি মডেল অন্তর্ভুক্ত করা, বিদেশে দূতাবাসের মাধ্যমে এসএমই রপ্তানি সহায়তা বাড়ানোসহ একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে একাধিক বৈঠক, মতবিনিময় ও অনলাইন পরামর্শ সভার মাধ্যমে নীতিগত সংস্কারের রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ প্রসঙ্গে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সংস্কারের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়ানো। সম্মিলিতভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে, যদিও তাদের কণ্ঠ কিছু বড় ব্যবসার মতো জোরালোভাবে শোনা যায় না। আমাদের অবশ্যই এসব উদ্যোক্তাদের গতিশীলতা বাড়ানোতে সাহায্য করতে হবে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিটি পর্যায়ে সহজ করতে হবে—অর্থায়ন থেকে অর্থপ্রদান ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যন্ত। সরকারকে এর সহায়ক হতে হবে, বাধা নয়।