× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দাম কমলেও নাগালের বাইরে অনেক সবজি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০৫ এএম

দাম কমলেও নাগালের বাইরে অনেক সবজি

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালে আসেনি। বিশেষ করে ফুলকপি, বেগুন, শিম ও বরবটির মতো সবজিগুলোর দাম আগের তুলনায় কমলেও এখনও তুলনামূলকভাবে চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেত, জোয়ার সাহারা ও তেজকুনিপাড়া এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে দোকানের ঝুড়িতে শোভা পাচ্ছে তাজা ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম। তবে ক্রেতাদের মুখে স্বস্তির ছাপ এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।

বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ এবং শিম ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। খুচরা বাজারে ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। 

দুই সপ্তাহ আগেও বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কিছু সবজি সেঞ্চুরি টপকে গিয়েছিল। এখন তুলনামূলকভাবে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে এসেছে বেশকিছু সবজির দাম। 

খিলগাঁও পাইকারি বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, প্রতিদিনই ট্রাকে করে শিম, কপি আসছে। বৃষ্টি না থাকায় মাঠে উৎপাদন ভালো। পাইকারিতে দাম কমেছে, তাই খুচরা বিক্রেতারাও কিছুটা ছাড় দিচ্ছেন।

তেজকুনিপাড়ার খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম ধীরে ধীরে কমছে ঠিকই, কিন্তু মানুষ এখনও আগের দামের ভয়ে কিনতে আসে না। ফুলকপি এখন ৬০ টাকায় দিচ্ছি, শিম ৮০ টাকা। আরও দুই সপ্তাহ গেলে বাজার কমে আসবে।

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, সামান্য কমলেও সবজির দাম এখনও স্বস্তির জায়গায় আসেনি। গৃহিণী রহিমা আক্তার বলেন, একসময় ৩০ টাকায় যে সবজি কিনতাম, এখন সেটাই ৬০ টাকা। ফলে সংসারের খরচ সামলানো যাচ্ছে না।

খিলক্ষেত বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রুবেল হোসেন বলেন, ফুলকপি, শিমের দাম কিছুটা কমলেও তা সাধারণ মানুষের আয় অনুযায়ী নয়। আশা করছি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে বাজার আরও কমবে।

সবজি বাজারের হালকা এই স্বস্তির প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগিতে। গত সপ্তাহে ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ডিম এখন ১৩৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে ১৬০-১৭০ টাকায় নেমেছে। তবে সোনালি জাতের মুরগির দাম স্থির আছে, ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা মোশাররফ মিয়া বলেন, সবজির দাম কমলে মানুষ মুরগি কম কেনে। তাই দামও কমে। কিন্তু সোনালি মুরগি পালনে খরচ বেশি, তাই দাম কমানো যাচ্ছে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাছের বাজারে রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০, চিতল ৬০০ থেকে ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৪০, নদীর ১,০০০ থেকে ১,২০০, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০, চাষের শিং ৪০০ থেকে ৫০০, কৈ ২২০ থেকে ২৮০, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাবি করে, তাহলে ভোক্তারা সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই।

পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারেও স্থিতিশীলতার ছোঁয়া মিলছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়, যা গত মাসে ছিল ১০০ টাকার ওপরে। দেশি রসুন ৮০- ১০০ টাকা। দেশি মসুর ডাল আগের মতোই ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, কিন্তু আমদানি করা মসুর বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ায় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। কৃষকের উৎপাদন বাড়াতে পারলে এই দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

জোয়ার সাহারা বাজারের আড়তদার আরফুল ইসলাম জানান, লাউ, পেঁপে ও কপির সরবরাহ বাড়ছে। তবে ফুলকপি, শিম, বেগুনের পর্যাপ্ত সরবরাহ হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ততদিন দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা