× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পণ্যের মান যাচাইয়ে হচ্ছে ৮৫১ কোটির প্রকল্প

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৪ পিএম

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৬ পিএম

পণ্যের মান যাচাইয়ে হচ্ছে ৮৫১ কোটির প্রকল্প

দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের মান যাচাই ও পরীক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে ৮৫১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাস্তবায়ন করবে প্রকল্পটি, যার মাধ্যমে রাসায়নিক, খাদ্য, টেক্সটাইল, ইলেকট্রিক্যাল ও পদার্থজাত পণ্যের পরীক্ষণ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়াও একনেকে মোট ১৪টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি আগামী জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে ল্যাবরেটরি সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে উদ্যোগটি। এর মধ্যে সরকার (জিওবি) দেবে ৮০১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বিএসটিআইয়ের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৫০ কোটি টাকা।

নতুন প্রকল্পের আওতায় একটি ১৩ তলা ভবন (একটি বেসমেন্টসহ) নির্মাণ করা হবে, যার আয়তন হবে প্রায় ১২ হাজার ৫১৯ বর্গমিটার। পাশাপাশি স্থাপন করা হবে ২০টি নতুন রসায়ন পরীক্ষণ ল্যাব এবং আধুনিকায়ন করা হবে বিদ্যমান ১৮টি ল্যাব। পদার্থ পরীক্ষণের জন্যও ১৫টি নতুন ল্যাব তৈরি ও ১৪টি বিদ্যমান ল্যাবের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৭৮১টি আধুনিক পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এর মধ্যে ৫৪১টি রাসায়ন পরীক্ষার জন্য এবং ২৪০টি পদার্থ পরীক্ষার জন্য। এ ছাড়া ২৫৮ প্রকার কেমিক্যাল ও রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল, ১৩৫ প্রকার মডিউল এবং পাঁচটি ‘সিস্টেম ল্যাব’ (এসি, ফ্রিজ, ট্রান্সফরমার, এলইডি ল্যাম্প ও সোলার) স্থাপন করা হবে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাসায়নিক ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষণ সক্ষমতা ৬৩ শতাংশ এবং পদার্থ, ইলেকট্রিক্যাল ও টেক্সটাইল পণ্যের সক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। বর্তমানে বিএসটিআই প্রতিবছর গড়ে ২০ হাজার পরীক্ষণ রিপোর্ট প্রদান করে। নতুন ল্যাব স্থাপন হলে বছরে প্রায় ৩২ হাজার রিপোর্ট প্রদান সম্ভব হবে।

দেশে বর্তমানে ২৯৯টি পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পরীক্ষণ তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি অনুযায়ী আরও ৭৯টি পণ্য বিএসটিআইয়ের পরীক্ষার আওতায় আসে। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পণ্যও এখানেই পরীক্ষিত হয়। কিন্তু সীমিত জনবল ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তা ও শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে বিএসটিআইয়ের সাতটি বিভাগীয় ও তিনটি জেলা কার্যালয় থাকলেও, সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনায় এটি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আরও ১০টি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে চলমান। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে পণ্যের মান পরীক্ষা ও বাজার তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ল্যাব আধুনিকায়নের ফলে শিল্প খাতে উৎপাদিত পণ্যের মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি ভোক্তার নিরাপত্তা ও সঠিক ওজন-পরিমাপ নিশ্চিত হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বিএসটিআইয়ের আগের বেশ কয়েকটি আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ, যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ক্রয় এবং মান নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী প্রভাব না পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে ৮০০ কোটির নতুন প্রকল্পটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটি নির্ভর করবে সময়মতো কাজ শেষ ও টেকসই মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর।

তবু শিল্প মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, মানসম্মত উৎপাদন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের দৌরাত্ম্য রোধে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

একনেকে উঠছে ১৪ প্রকল্প

আজ অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ২ হাজার ১৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প চারটি, সংশোধিত প্রকল্প সাতটি এবং ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানো তিনটি প্রকল্প রয়েছে।

তালিকায় থাকা প্রকল্পের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন প্রকল্প রয়েছে। যার নাম প্রো অ্যাক্ট বাংলাদেশ- রেজিলিয়েন্স স্ট্রেংথেনিং দো অ্যাগ্রি-ফুড সিস্টেমস ট্রান্সফরমেশন ইন কক্সবাজার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প। এটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধিত হচ্ছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছেÑ ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন, ‘খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’, ‘জামালপুর শহরের নগর স্থাপত্যের পুনঃসংস্কার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’ এবং ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘উত্তরা লেক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প,

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ’ 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কিশোরগঞ্জ (বিন্নাটি)-পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর টোক জেলা মহাসড়ককে যথাযথমানে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিএসটিআই-এর পদার্থ (ফিজিক্যাল) ও রসায়ন (কেমিক্যাল) পরীক্ষণ ল্যাবরেটরির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্প। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘মানসিক হাসপাতাল, পাবনা-কে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর’, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (৪র্থ সংশোধিত)’ এবং ‘পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (৫ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

এ ছাড়া সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা পূর্বে অনুমোদিত ১২টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সদস্যদের অবহিত করবেন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা