সাক্ষাৎকার
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০৭ এএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০০ এএম
ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা দিয়েও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে সিটি ব্যাংক। গ্রাহকের এই আস্থা ও বিশ্বাসকে ভিত্তি করে ব্যাংকাস্যুরেন্সকে নতুন পথে নিয়ে যেতে চান ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার পলিসি বিক্রি করেছে। ব্যাংকাস্যুরেন্সের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন
প্রশ্ন : দেশের আর্থিক খাত বিবেচনায় ব্যাংকাস্যুরেন্সের বর্তমান অবস্থা কেমন? সিটি ব্যাংকই বা কেমন সাড়া পাচ্ছে?
উত্তর : বর্তমানে ব্যাংকাস্যুরেন্স বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি উদীয়মান খাত হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএ’র নীতিগত সহায়তায় এখন অনেক ব্যাংকই এটি সক্রিয়ভাবে চালু করেছে। গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও ঝুঁকি-নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে, তাই এটি নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে। সিটি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছে; বিশেষ করে সঞ্চয়, সংযুক্ত বীমা ও অবসরকালীন পরিকল্পনা পণ্যে গ্রাহক অংশগ্রহণ সন্তোষজনকভাবে বেড়েছে। আমাদের মার্কেট শেয়ার এখন এই ব্যবসার ৫৫ শতাংশের বেশি এবং আমরা শিগগিরই প্রথম ৫০ হাজার পলিসি বিক্রির মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছি।
প্রশ্ন : ব্যাংকগুলোর জন্য ব্যাংকাস্যুরেন্স কতটা লাভজনক হতে পারে?
উত্তর : ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যাংকগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে একটি লাভজনক উদ্যোগ। এতে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত কমিশন আয় করতে পারে; যা মূল ব্যাংকিং আয়ের বাইরে একটি নতুন ধারা তৈরি করে। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্রাহকদের কাছে বীমাপণ্য বিক্রির মাধ্যমে ক্রস-সেলিংয়ের সুযোগ বাড়ে। এর ফলে গ্রাহক ধরে রাখার হার বাড়ে এবং ব্যাংকের সামগ্রিক আয় ও ব্র্যান্ড মূল্য উন্নত হয়। তা ছাড়া ব্যাংকের কর্মীদের বিক্রয় দক্ষতা ও আর্থিক পরামর্শদানের সক্ষমতাও বাড়ে।
প্রশ্ন : ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি কীভাবে সমন্বয় করে কাজ করে?
উত্তর : ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির সমন্বয় একটি কাঠামোবদ্ধ পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংক সাধারণত গ্রাহক সংযোগ, বীমাপণ্য বিপণন ও প্রিমিয়াম সংগ্রহের দায়িত্বে থাকে আর বীমা কোম্পানি পলিসি আন্ডাররাইটিং, দাবি নিষ্পত্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে। যৌথভাবে তারা বীমাপণ্য উন্নয়ন, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং গ্রাহক সচেতনতা কার্যক্রমে কাজ করে। সঠিক সমন্বয় থাকলে উভয় প্রতিষ্ঠানই গ্রাহক সন্তুষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতে উপকৃত হয়।
প্রশ্ন : ব্যাংকাস্যুরেন্স বাস্তবায়নে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কী কী?
উত্তর : ব্যাংকাস্যুরেন্স বাস্তবায়নে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো হলোÑ ক. গ্রাহক সচেতনতার অভাব : এ কারণে অনেক গ্রাহক এখনও বীমাকে অতিরিক্ত খরচ হিসেবে দেখেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করেন না। খ. কর্মীদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি : ব্যাংক কর্মীরা বীমাপণ্য সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষ না হওয়ায় এর বিক্রয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। গ. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা : এ কারণে ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন অনেক সময় ধীরগতি বা অসম্পূর্ণ থাকে। ঘ. বিশ্বাসের ঘাটতি : গ্রাহকের কাছে বীমা দাবি নিষ্পত্তি নিয়ে আস্থার অভাবও বাজার সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন : আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে আপনি ব্যাংকাস্যুরেন্সকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর : আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে আমি ব্যাংকাস্যুরেন্সকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিপক্ব সেগমেন্ট হিসেবে দেখতে চাই। যেখানে গ্রাহকরা সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ঝুঁকি সুরক্ষাকে একই প্ল্যাটফর্মে পাবেন। ইতোমধ্যে সিটি ব্যাংক এ খাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ব্যাংকটি ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায় বাজারের ৫৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার পলিসি বিক্রি করেছে। ভবিষ্যতে এই সাফল্যের ভিত্তিতে সিটি ব্যাংক আরও উদ্ভাবনী পণ্য, ডিজিটাল সমাধান ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা দিয়ে শিল্পটিকে নেতৃত্ব দেবে বলে আমি আশা করছি।