প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
দেশে কৃষি উৎপাদন বজায় রাখা ও সার সরবরাহের ঘাটতি এড়াতে সরকার এবার রাষ্ট্রীয় ও উন্মুক্ত উভয় পদ্ধতিতে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭২২ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি। এসব সার আসবে কানাডা, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে; পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকেও সার সংগ্রহ করবে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সার আমদানির এই চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের অনুমোদন অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। এই সার আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ১৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩৫৬ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। এই সার মূলত ধান ও অন্যান্য ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা কৃষি উৎপাদনের মৌসুমে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করে।
একইভাবে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস কোম্পানির সঙ্গে বিএডিসির চুক্তির আওতায় আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২০৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৫৬৮ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। মরক্কো বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসফেট রপ্তানিকারক দেশ; তাদের উৎপাদিত সার বাংলাদেশে কৃষি খাতে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত এই ক্রয়ে ব্যয় হবে প্রায় ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৪২২.৬৬ মার্কিন ডলার। ইউরিয়া সার বাংলাদেশের কৃষিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার, বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা ও শাকসবজির চাষে। ফলে সার মজুত ধরে রাখতে এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাফকো থেকে স্থানীয়ভাবে ইউরিয়া ক্রয়
এ ছাড়া কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনারও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, প্রতি টনের দাম ৩৯০ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার। কাফকো বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাসভিত্তিক সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যা মূলত চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশের কৃষি খাত যে পরিমাণ সার ব্যবহার করে, তার একটি বড় অংশই আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সত্ত্বেও সরকার কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে এই আমদানি পরিকল্পনা নিয়েছে। কারণ মৌসুমে সামান্য ঘাটতিও উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে এবং ফসলের খরচ বেড়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে সার মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থায় সরকার আরও কঠোর নজরদারি চালু করতে যাচ্ছে, যাতে কোনো পর্যায়ে সারের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ না থাকে।