× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কেওড়াজল বাজারজাত

খাদ্যে ব্যবহার হচ্ছে ছিটানোর সুগন্ধি

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৫০ পিএম

খাদ্যে ব্যবহার হচ্ছে ছিটানোর সুগন্ধি

উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে মান নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাসায়নিক পণ্য কেওড়াজল বাজারজাত হচ্ছে বিএসটিআইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই। সাধারণত কোনো পণ্য বাজারজাত করতে হলে ওই পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আর খাদ্যপণ্য হলে ওই পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কি না মন্দ- সেটি নিশ্চিত না করে বাজারজাত করার সুযোগ নেই। কারণ উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হলে ওই পণ্যের মান সনদ নিতে হয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে। 

বর্তমানে বিএসটিআইর বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৩১৫টি পণ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় নেই কেওড়াজল। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ পরিচালক (রসায়ন) মো. খলিলুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় কেওড়াজল নেই। তাই আমরা কখনও এটি পরীক্ষা করে দেখিনি, পণ্যটির মান ঠিক আছে কি না সেটিও আমাদের জানা নেই।’

বিএসটিআই মান নিয়ন্ত্রণ না করলেও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই কেওড়াজল। ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের বড় শিল্পগ্রুপ প্রতিষ্ঠানও উৎপাদন করছে এই কেওড়াজল। শুরুর দিকে গোলাপজলের মতো এই সুগন্ধি তরলটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুগন্ধ ছড়ানোর জন্য ছিটানো হলেও এখন এটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় সুগন্ধির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিরিয়ানিতে। শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁ নয় বিরিয়ানি রান্নায় বাসাবাড়িতেও ব্যবহার করা হচ্ছে এই কেওড়াজল। বাসাবাড়িতে সাধারণত মিষ্টান্ন যেমন- সেমাই, পায়েস, ফিরনি। মোগলাই রান্না যেমন- কোরমা, বিরিয়ানিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য আইনে খাবারে অনুমোদিত সুগন্ধি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই কেওড়াজল খাবারে ব্যবহার করা আইনগতভাবে নিষেধ। কিন্তু আমরা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে দেখেছি প্রতিষ্ঠানগুলো খাবারের মধ্যে এই কেওড়াজল ব্যবহার করছে। নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর কয়েকদিন আগে এই অপরাধে একটি রেস্টুরেন্টকে জরিমানাও করেছে। আমরাও অভিযান চালিয়ে এটি রোধ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তো খাবারে ব্যবহার করার জন্য তৈরি না। মান নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতা না থাকায় যারা উৎপাদন করেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা অভিযান পরিচালনা করতে গেলে তারা বলেন, এটি তারা খাবারে ব্যবহারের জন্য তৈরি করছেন না।’ 

কেওড়া হলো এক ধরনের পান্ডানাস গণের একটি উদ্ভিদ। ওই গাছের ফুলের নির্যাস থেকেই তৈরি হয় বলে এই তরল পণ্যটিকে বলা হয় কেওড়াজল। কেওড়া ফুলের নির্যাস থেকে এই সুগন্ধি তরল পণ্য তৈরির কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বাজারে যেসব কেওড়াজল পাওয়া যাচ্ছে সেটি ওই ফুলের ফ্লেভার ব্যবহার করে কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে। তাই ছিটানোর জন্য তৈরি এই তরলটি খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ জন্য তারা পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইকে সহসায় উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, ছিটানোর জন্য তৈরি করা হলেও এটি যেহেতু এখন মানুষ খাবারের মধ্যে ব্যবহার করছে, তাই পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অন্যথায় কেমিক্যালজাতীয় এই পণ্যটি খাবারে ব্যবহারের কারণে মানব শরীরে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক নাহিদুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খাঁটি প্রাকৃতিক কেওড়াজল যদি অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করা হয়, তবে তাতে তেমন কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। কিন্তু সিন্থেটিক কেওড়াজল বিশেষ করে যদি এতে কেমিক্যাল সলভেন্ট/অ্যারোমা কেমিক্যাল থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, স্নায়বিক, হরমোনাল এবং ক্যানসার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কেওড়াজলে কেমিক্যাল সলভেন্ট অথবা অ্যারোমা কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে কি না সেটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত।’

ব্যপকহারে বাজারজাত হওয়ার পরও কেওড়াজলের মান নিয়ন্ত্রণ কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের মান উইংয়ের পরিচালক মো. সাইদূল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ওইসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করি, যেইগুলো বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় থাকে। এখন বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় আছে ৩১৫টি পণ্য। ওই পণ্যের তালিকায় কেওড়াজল নেই। ওই পণ্যগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিএসটিআই সরকারের কাছে উপস্থাপন করে। এরপর সরকারিভাবে অনুমোদন পেলে সেই পণ্যটি বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এর জন্য আগে পণ্যটির মান নির্ধারণ করতে হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পণ্যটি যেহেতু ছিটানোর জন্য তৈরি করা হয়, তাই এটির মান নির্ধারণ করার বিষয়ে ইতঃপূর্বে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। কেউ কখনও এই পণ্যটি পরীক্ষার জন্যও বিএসটিআইতে পাঠায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা