বিশ্ব ডিম দিবস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৫ পিএম
অতিথি আপ্যায়নে বিপদ থেকে উদ্ধারের তাৎক্ষণিক হাতিয়ার ডিম। গরিবের আমিষের চাহিদা মেটানো ডিম এখন ধনীর খাবার টেবিলকেও সমৃদ্ধ করছে। আর মেস জীবনে ডিমের বিকল্প যে কিছু নেই তা তো বলে শেষ করা যাবে না। কোনো কিছু রান্না করতে না পারলে কড়াইয়ে সামান্য তেল, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সহজেই ডিম ভেজে খাওয়া যায়। বিস্কুট, কেক, রুটি, পুটিংসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে এখন ডিমের ব্যবহার বাড়ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের উৎপাদনও বেড়েছে।
এ অবস্থায় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ শুক্রবার দেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। আন্তর্জাতিক ডিম কমিশনের (আইইসি) উদ্যোগে অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় প্রথম দিবসটি পালন শুরু হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন’। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
এক দশকে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে ২.১৬ গুণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশে মোট ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪৪০ কোটি, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় ২.১৬ গুণ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৯১.২৪ কোটি। তা ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে জনপ্রতি ডিম প্রাপ্যতা বছরে ১৩৭টি।
এদিকে ডিমের প্রাপ্ততা খামারের ওপর নির্ভর না করে বরং প্রতিটি গৃহস্থের ঘরে ডিম উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, শুধু খামারের ওপর নির্ভর না করে বরং গ্রামের মা-চাচিরা যেমন আগে হাঁস-মুরগি পালন করতেন সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে এক বছরে এ খাতে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, এক সময় যদিও শুধু গৃহস্থের ডিমের জন্য ক্রেতাদের নির্ভর করতে হতো, বর্তমানে সেই স্থান দখল করেছে লেয়ার মুরগির খামার।
তিনি বলেন, আজ বিশ্ব ডিম দিবসেও ভালো নেই ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। এজন্য প্রান্তিক খামারিদের জন্য স্বল্পসুদে বা জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা দিতে হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, একটি মাঝারি আকারের ডিমে রয়েছে— প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম এবং শরীরের বিকাশে সহায়ক ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড। নিয়মিত ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। ডিমে আছে ভিটামিন ‘এ’- এতে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। তা ছাড়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। গর্ভবতী মহিলার পুষ্টি নিশ্চিত করে শিশুকে সুস্থ ও সবল রাখে, শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে।
ডিম ও দুধ আদর্শ খাদ্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবু তোরাব এম এ রহিম বলেন, সবচেয়ে সহজলভ্য প্রোটিন হচ্ছে ডিম। অর্থনৈতক সামর্থ্য বিবেচনায় ডিম একেবারে প্রান্তিক থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবার হাতের নাগালেই থাকে। আমাদের প্রধান প্রোটিন সাপ্লায়ার হচ্ছে ভাত- এটি প্লান্ট বা উদ্ভিজ প্রোটিন। আর প্রাণিজ প্রোটিনের ক্ষেত্রে ডিম ও দুধ আদর্শ খাদ্য। পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন ডিম ও দুধ আদর্শ খাদ্যই থাকবে।