প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
কর অব্যাহতির ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন অর্থ অধ্যাদেশে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২’-তে সংশোধনী এনে আগের মতোই এই ক্ষমতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হাতে রেখেছে সরকার। ফলে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর অব্যাহতি এখনও এনবিআর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই কার্যকর হবে।
গত সোমবার অর্থ আইনের কিছু ধারায় সংশোধন আনা এক অধ্যাদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই সঙ্গে অধ্যাদেশে কোম্পানি করদাতার ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজের সুদের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোম্পানি ছাড়া অন্য করদাতাদের ক্ষেত্রে হার আগের মতোই ১০ শতাংশ থাকবে। এই পরিবর্তন অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সব ক্ষেত্রেই উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। এবার কোম্পানি করদাতাদের ক্ষেত্রে আরও ৫ শতাংশ বাড়ানোয় এ খাতে কার্যকর করভার আরও বৃদ্ধি পাবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মোটরযান থেকে সংগৃহীত অগ্রিম কর এখন থেকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হবে, যা কেবল ওই যানবাহন থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা অবাণিজ্যিক ব্যবহারের যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। তবে করদাতা যদি মোটরযান থেকে ঘোষিত আয়ের চেয়ে বেশি আয় প্রদর্শন করেন, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়ের অংশের ওপর নিয়মিত কর আরোপ করা হবে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে আনা সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়েছে, সরকার এখন থেকে গেজেট প্রজ্ঞাপন বা বিশেষ আদেশ জারি করে যেকোনো পণ্য, পণ্য শ্রেণি বা সেবাকে মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক বা অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।
এর আগে গত ৭ মে ‘কর ব্যয় নীতিমালা ও এর ব্যবস্থাপনা কাঠামো’ প্রকাশ করে এনবিআর প্রস্তাব করেছিল, ভবিষ্যতে করছাড় বা অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নেওয়া হবে, এনবিআর নয়। তবে সদ্য জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশে সরকার সেই প্রস্তাব থেকে সরে এসে কর অব্যাহতির ক্ষমতা আগের মতোই রাজস্ব প্রশাসনের হাতেই রাখল।