× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইএমইডির প্রতিবেদন

তিন বছরের কাজ ঝুলছে সাত বছর

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম

তিন বছরের কাজ ঝুলছে সাত বছর

সরকারি টেক্সটাইল শিক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া একটি বৃহৎ প্রকল্প এখন রীতিমতো জটিলতার মধ্যে আটকে আছে। ‘বিদ্যমান সাতটি ও নতুন ছয়টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউশন স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের সাত বছর পেরোলেও অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। তিন বছরের নির্ধারিত সময়সীমায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গায় কাজ শুরুই হয়নি, কোথাও কোথাও ভবন নির্মাণ হলেও নিম্নমানের কাজে ভর করেছে ফাটল, পানি চুইয়ে পড়া আর প্লাস্টার খসে পড়ার মতো ত্রুটি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রকল্পটির এই করুণ চিত্র।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। তখন খরচ ধরা হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। লক্ষ্য ছিল দেশের ৪২টি বিদ্যমান টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের মধ্যে সাতটিকে আধুনিকায়ন এবং নতুন ছয়টি জেলায় আরও ছয়টি ইনস্টিটিউট স্থাপন। এর মাধ্যমে টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা, যা দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম বড় খাত বস্ত্র শিল্পকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে।

নোয়াখালীর কবিরহাট টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ভবনের চিত্র প্রকল্পের ব্যর্থতার একটি প্রকট উদাহরণ। ছয়তলা ভবনের ভেতের ওপর চারতলা পর্যন্ত ঢালাই সম্পন্ন হলেও নিচতলার বিম ও কলামে ফাটল দেখা দিয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ভেতর পানি চুইয়ে পড়ছে, ছাদ ঢালাইয়ের মিশ্রণ নিম্নমানের হওয়ায় প্লাস্টার খসে পড়ছে। ভবন এখনই স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছে। আইএমইডির পরিদর্শনে এসব ত্রুটি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

অন্যদিকে গৌরীপুর, বকশীগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরের ইনস্টিটিউটগুলোর অগ্রগতি একেবারেই শূন্য। সাত বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে কার্যত কিছুই হয়নি। বরগুনা, মোহনগঞ্জ, জামালপুর, উল্লাপাড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি নগণ্য। ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৬ শতাংশ, পত্নীতলায় ৬২ শতাংশ, উল্লাপাড়ায় ৩৮ শতাংশ, জামালপুরে ২৭ শতাংশ, মোহনগঞ্জে ২৫ শতাংশ, বরগুনায় ১২ শতাংশ এবং গফরগাঁওয়ে ২০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। অন্যদিকে কবিরহাটের কাজের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ হলেও মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প গ্রহণের সময় নিয়ম অনুযায়ী ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পূর্ণকালীন পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ষষ্ঠ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অসংগতি দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের খরচ ও সময় বারবার বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ৩৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকায়। পরবর্তীতে আবার খরচ কমিয়ে ৩৩৫ কোটি টাকায় আনা হয়। কিন্তু সময় বাড়ানো হয় একের পর এক। ২০২১ থেকে ২০২৪, তারপর ২০২৫, সর্বশেষ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতা প্রকল্প বাস্তবায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

নোয়াখালীর কবিরহাট ইনস্টিটিউটের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক আছে। দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হলেও তৎকালীন বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ইচ্ছায় এখানে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ২১ কোটি টাকার বেশি চুক্তি হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। মনিটরিং দুর্বল থাকায় ঠিকাদারের গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজ ধরা পড়েনি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বস্ত্র অধিদপ্তর ও পাট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া, দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা এবং ভবন নির্মাণের মানোন্নয়নে নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক একেএম রাকিবুর রহমান দাবি করছেন, পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে ভালো। তার ভাষায়, গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৩০ শতাংশ হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে কবিরহাটের ভবনের প্লাস্টার খসে পড়েছিল, তবে পরে তা ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গৌরীপুর, বকশীগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে ভূমি উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলো আশার বাণী শোনালেও বাস্তব অগ্রগতি তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিন বছরের কাজ ঝুলছে সাত বছর ধরে। শিক্ষা খাতে দক্ষ জনবল তৈরির যে পরিকল্পনা এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল, তা এখনও অধরা। বরং একের পর এক সংশোধন, সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ প্রকল্পটিকে পরিণত করেছে অনিশ্চয়তা ও ব্যর্থতার প্রতীকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা