প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২২ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২ ১৯:৫১ পিএম
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফের শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার চীনের চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের সঙ্গে এ সংক্রান্ত এক সমঝোতা চুক্তি সই হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাও লিয়ানঝি এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল ইকোনমিক জোনের চায়না হারবাং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিনয় বাড়ৈ। প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নানা জটিলতার কারণে ২০১৯ সালের পর থেকে ইকনোমিক জোনের কাজ মোটামুটি বন্ধ ছিল। এখন নতুন চুক্তি হয়েছে। কার্যক্রম ফের শুরু হবে।’
তিনি বলেন, ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ওষুধ, তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, রাসায়নিক, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, প্লাস্টিক পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্নেস ও সিমেন্ট কারখানা হতে পারে। সেখানে স্থাপিত হবে ৩৭১টি শিল্পকারখানা। এতে দেশের প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এই ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান বিনয় বাড়ৈ। বলেন, এর মধ্যে প্রায় ২০০ একর ভূমি উন্নয়ন করা হয়েছে। আনোয়ারার পিএবি প্রধান সড়ক কালাবিবি দীঘি থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত এক কিলোমাটর দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের এবং বৈরাগ থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত চার লেনের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হয়েছে। নির্মিত হয়েছে বৈরাগ অংশে প্রায় এক কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর। সমান করা হয়েছে প্রকল্প এলাকার ২০০ একর পাহাড়ি টিলা। তা ছাড়া প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা ভূমিও চিহ্নিত করা আছে।
প্রকল্প এলাকাটি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯ কিলোমিটার, শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চায়না ইকোনমিক জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে সীমানাপ্রাচীরের কাজ চলছে। কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও চীনা কর্মকর্তা এবং বেজার কর্মকর্তাদের হাজিরা ছাড়া আর কোনো কাজ নাই।
বেজার তথ্যমতে, ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় হাত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি, বেসরকারি, জিটুজি ও বিদেশি অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে ইতোমধ্যেই ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চিহ্নিতকরণ শেষ হয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরকালে দেশটির সরকার বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনে আগ্রহ দেখান। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এর দুই বছর পর ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরে এলে ইকোনমিক জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় ঠিক হয় জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বেজার সঙ্গে চায়না হারবারের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় জোনের উন্নয়ন কাজ তেমন হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় আট বছর পর চীনা জোনটি স্থাপনে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করল বেজা।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ উদ্যোগ এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনামাত্র। একটি পরিকল্পিত চাইনিজ ইকনোমিক জোন তৈরির মাধ্যমে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে। এই জোনের পূর্ণতা দানে চীন সরকার দ্রুত কাজ করতে বদ্ধপরিকর।