ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও প্রাইম লাইফ দুর্নীতি
মোহাম্মদ আলম
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২৫ এএম
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জামিনে বের হয়েই কোম্পানিতে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অথচ তার নেতৃত্বেই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও প্রাইম লাইফ ইনস্যুরেন্সের হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে লোপাটের ঘটনা ঘটে। এতে লাখ লাখ বীমা গ্রাহক পথে বসলেও অর্থ লোপাট চক্রের হোতা নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আছেন বহাল তবিয়তে। অবৈধ অর্থের জোরেই তারা আবারও দোর্দণ্ড প্রতাপে ফারইস্টে ফেরার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, তিনি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় চারটি মামলা দায়েরের পাশাপাশি দুদকে তিনটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওইসব মামলায় সাবেক দুই চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেকসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এমএ খালেক ছাড়া বাকিরা জামিনে বের হয়ে গেছেন।
জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স ও প্রাইম ইনস্যুরেন্স একসময় দেশের সফল দুই বীমা কোম্পানি ছিল। করপোরেট সুশাসন মেনে চলা, দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ ও যথাসময়ে বীমাকারীদের দায় পরিশোধের কারণে দুটি কোম্পানিরই ভাবমূর্তি ছিল বেশ উজ্জ্বল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের শিকার হয়ে এ দুই কোম্পানি এখন অনেকটাই পঙ্গু। আওয়ামী লীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক ওই কোম্পানির অর্থ লোপাটের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০০৮ সাল-পরবর্তী এক যুগে কোম্পানি দুটির চেয়ারম্যান-পরিচালকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন তারা।
নজরুল-খালেক চক্র কীভাবে ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্স থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্স থেকে ২ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এর বাইরে আরও ৪৩২ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চার বছরে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে জমি কেনে ফারইস্ট লাইফ। এসব জমি কেনা হয় বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে। সাতটি জমি কেনা ও ভবন নির্মাণ এবং বালু ফেলার নামে ৬৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ির ৭৮৬ শতাংশ জমি ১৯৯ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে বলে হিসাবে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এ জমি কেনা হয়েছে ১৯ কোটি টাকায়। ১৯৯ কোটি টাকার মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে চেকে দেওয়া হয়েছে ৬৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং, কেডিসি কনস্ট্রাকশন ও মাহবুবা অ্যাসোসিয়েটকে চেকে দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি টাকা এবং রেজিস্ট্রেশন খরচ বাবদ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বাকি টাকা দেওয়া হয়েছে নগদে। কোম্পানির ৭২ নম্বর কাকরাইলের জমি কেনায় ১৬০ কোটি, গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউর জমি কেনায় ৮৯ কোটি, গুলশানের আরও ২টি জমিতে ৮০ কোটি এবং বরিশালের আলেকান্দায় একটি জমি কেনায় ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এ দুই বীমা কোম্পানি থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেকের বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন মামলা করেছে দুদক। অর্থ লোপাটের আরও ডজন খানেক মামলা রয়েছে অর্থঋণ ও দেওয়ানি আদালতেও। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে একাধিকবার তারা কারাগারেও গেছেন। কিন্তু অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকার প্রভাব খাটিয়ে দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর আবারও জাল-জালিয়াতি ও অর্থ পাচার চক্রে সক্রিয় হয়ে ওঠেন দুজন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম আবারও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সসহ একাধিক বীমা কোম্পানি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের দাবিÑ বীমা কোম্পানি, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোপাটকৃত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক। পাচারকৃত অর্থে সেসব দেশে বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়েছেন। তাদের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বেগমপাড়ায় বসবাস করছেন। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আরও অর্থ লোপাট করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যদিও উভয়ের দেশত্যাগেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও তারা অবৈধভাবে ভারত হয়ে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সূত্র। এমতাবস্থায় এসব অর্থ লোপাটকারীদের ফের গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুয়া কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, দেশ থেকে অর্থ পাচারসহ নজরুল ইসলামের যাবতীয় অপকর্মের প্রধান সহযোগী হলেন তার ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম মোহন। ম্যানেজার হলেও দীর্ঘদিন ধরে নজরুলের ছায়াসঙ্গী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন তিনি। নিজেও বেনামি বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে ফারইস্ট লাইফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, মনিরুল ইসলাম মোহনের মাধ্যমেই নজরুল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেছেন। আন্তর্জাতিক হুন্ডি কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে মোহনের।
ফারইস্ট লাইফের কেনা জমির দলিল থেকে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক প্রতারণার কাজে তাদের নিকটাত্মীয়দের (শ্বশুর, স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাইদের) ব্যবহার করেছে। কাকরাইলের জমি কেনা হয়েছে নজরুল ইসলামের শ্বশুর মো. মফিজুল ইসলাম ও স্ত্রীর ভাই সেলিম মাহমুদের কাছ থেকে। জমি বিক্রির পর নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা ইসলামকে ১১৫ কোটি টাকা উপহার দেন মফিজুল ইসলাম ও সেলিম মাহমুদ। তাছলিমা ইসলাম আবার সেখান থেকে ৫০ কোটি টাকা উপহার দেন তার স্বামী নজরুল ইসলামকে। তোপখানা রোডের জমি কেনা হয়েছে নজরুল ইসলামের বন্ধু নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুই সহোদর মো. সোহেল খান ও মো. আজাহার খানের কাছ থেকে। আর মিরপুর চটবাড়ির নিচু এলাকার জমি কেনা হয়েছে ২০ জন বিক্রেতার কাছ থেকে। বীমা আইন অনুযায়ী ৫ হাজার টাকার বেশি হলেই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে লেনদেন করার আইন থাকলেও এসব জমির মালিকদের নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে বিভিন্ন ব্যাংকে ফারইস্টের নামে থাকা মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট রিসিপ্ট (এমটিডিআর) বন্ধক রেখে ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নজরুল-খালেক চক্র। এর মধ্যে এমএ খালেক, প্রাইম প্রোপার্টি, প্রাইম ফাইন্যান্স, ম্যাকসন্স ও মিজানুর রহমানের নামে বন্ধক রেখে আত্মসাৎ করা হয় ৫৪২ কোটি টাকা। এছাড়া এমটিডিআর বন্ধক রেখে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির নামে ১৬৪ কোটি, পিএফআই প্রোপার্টিজের নামে ১৬০ কোটি, ফারইস্ট প্রোপার্টিজের নামে ১৫১ কোটি, প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশনের নামে ৯২ কোটি, মিথিলা প্রোপার্টিজের নামে ৬৪ কোটি, পিএফআই সিকিউরিটিজের নামে ৫৫ কোটি, মিথিলা টেক্সটাইলের নামে ৪৮ কোটি, কেএম খালেদের নামে ২১ কোটি, মোল্লা এন্টারপ্রাইজের নামে ২০ কোটি এবং কামাল উদ্দিনের নামে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিকর বিনিয়োগের মাধ্যমে ফারইস্ট লাইফের আরও ২৮৭ কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ করেন কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান-পরিচালকরা। এর মধ্যে বাংলা লায়ন কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে ১৪০ কোটি, পিএফআই সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের মাধ্যমে ১৩২ কোটি, প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে বিনিয়োগের মাধ্যমে ১৪ কোটি, আল-ফারুক ব্যাগস-এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ২ কোটি এবং কর্মকর্তাদের নামে ভুয়া ব্যাংক হিসাব দেখিয়ে ৮৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর পাশাপাশি ৪৩২ কোটি টাকার পরিচালনগত ত্রুটি ও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। আর এসবই করেছেন কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক। কোম্পানিটির সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্লাহসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও প্রাইম লাইফের লোপাটকৃত অর্থে নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। বাড়িটির ঠিকানা ১১৫২২ মানাতি বে এলএন, ওয়েলিংটন, এফএল ৩৩৪৪৯। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়িটি কেনা হয়েছিল ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৭ ডলার দিয়ে। বাড়ি কিনতে কোনো ঋণ নেওয়া হয়নি, অর্থাৎ পুরো অর্থই একবারে পরিশোধ করা হয়। এ ছাড়া ছেলেমেয়ের নামে নজরুল একই রাজ্যে তিনটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লুটের পর ২০২০ সালের মে মাসে নজরুল ইসলাম প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানের পদ দখলে নেন। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় কোম্পানিটির অর্থ লুণ্ঠনের প্রমাণ পাওয়ায় আইডিআরএ ২০২২ সালে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
নজরুলের উত্থান যেভাবে
মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম এলাকার পানাম গ্রামের অতিদরিদ্র ঘরের সন্তান নজরুল ইসলাম। যদিও অশিক্ষিত নজরুলের বর্তমান ঠিকানা গুলশানের ৬২ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ি প্রাইমা ভেরা অ্যাপার্টমেন্টের ৫ তলার ৫-এ। ১৯৮৮ সালে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে জাপানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অর্থ আত্মসাৎ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় তাকে জাপান থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে ফেরত এসে হুন্ডি চক্রে যুক্ত হন। হুন্ডি ব্যবসার পাশাপাশি বহু প্রবাসীর টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে ফুলেফেঁপে ওঠেন নজরুল। সে সময় জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী রাজনীতিতে। ২০০০ সালের মে মাসে মাত্র ২৫ লাখ টাকায় শেয়ার কিনে হয়ে যান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অন্যান্য পরিচালকদের হটিয়ে দখলে নেন কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের পদ। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
কোম্পানিটির বর্তমান এক পরিচালক জানান, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত দ্রুত বিস্তৃত হয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে নজরুল ইসলাম ও এমএ খালেক চক্র কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকেই হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তারা কোম্পানির প্রায় ৩৯ লাখ গ্রাহককে চরম বিপদে ফেলেছেন। ৪ হাজার ৩০০ ডেস্ক কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৩০ কোটি টাকাও তুলে নিয়েছেন নজরুল ইসলাম ও খালেক। ভুয়া অ্যাকাউন্ট করে কোম্পানির হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। ক্রয় কমিটির নামে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা হয় কোম্পানির আইটি বিভাগ, জেনারেল সার্ভিস ও অডিট বিভাগকে। তাদের আর্থিক অনিয়ম ধামাচাপা দিতে কোম্পানির সফটওয়্যার থেকে সব ভাউচার ডিলেট করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক তদন্তে দেখা যায়, নজরুল-খালেক চক্র দুর্নীতির মাধ্যমে ফারইস্টের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে দুদকে তিনটি অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দুটি এবং শাহবাগ থানায় চারটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও নজরুল ইসলাম এখন ঢাকার অভিজাত গুলশান পাড়ায় রাজকীয় জীবন-যাপন করছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্সের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে সব রকম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনের ফাঁক দিয়ে এরা জামিন পাচ্ছেন। তবে ফারইস্ট লাইফে ফেরার বিষয়ে তৎপরতা চালালে তা সহজ হবে না বলে জানান তিনি।