প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:০৪ পিএম
কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ও কৃষক পর্যায়ে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে চীন, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এই উদ্যোগে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকার বেশি।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের আনা একাধিক প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
চীন থেকে ডিএপি সার
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চীনের ব্যানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গে নবায়িত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এ প্রস্তাব অনুমোদনও পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৭৭২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। এর ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩ কোটি ৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭৯ কোটি টাকা। চীন থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আমদানির মাধ্যমে দেশে ডিএপি সারের ঘাটতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
মরক্কো থেকে একাধিক ধাপে আমদানি
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চুক্তি থাকায় এবারও তাদের কাছ থেকে বড় আকারের সার আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারদরে প্রতি টন টিএসপি সারের দাম ধরা হয়েছে ৫৮৫ দশমিক ৩৩ ডলার। মোট খরচ হবে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে আরও দুটি ধাপে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার আনা হবে। প্রতিটি ধাপে ৪০ হাজার টন করে সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুসারে এসব সারের দাম পড়বে প্রায় ৭ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৪৫ কোটি টাকার বেশি। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৭৬০ দশমিক ৩৩ ডলার।
সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আনা হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৪৩৫ মার্কিন ডলার। মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।
সাবিক কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় পরিসরের চুক্তি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সরবরাহের চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত লট অনুযায়ী ধাপে ধাপে সরবরাহ দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক অনুমোদনকৃত প্রস্তাবটি সেই চুক্তির দ্বিতীয় লটের অংশ।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা মেটাতে যথাসময়ে মজুদ বাড়ানো না হলে বাজারে সংকট তৈরি হয়। এতে কৃষক পর্যায়ে দাম বেড়ে যায় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও সারের দাম প্রায়ই ওঠানামা করছে। তাই সরকার আগেভাগে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে।
কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। তবে আগামী মৌসুমে ধানসহ কয়েকটি প্রধান ফসলের আবাদ একসঙ্গে শুরু হবে। এ সময় চাহিদা বাড়বে। সে কারণেই নতুন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল গোলচত্বর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজের ব্যয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।